লখনউ: মুসকান রাস্তোগী, প্রগতী যাদবের পর পিঙ্কি শর্মা। প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করার চেষ্টায় এবার নাম লেখাল উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগর। আগের দুই ঘটনায় দুই যুবকের জীবনের পরিণতি ভয়ঙ্কর মৃত্যু। মুজফ্ফরনগরের ঘটনায় অবশ্য হতভাগ্য স্বামী অনুশ শর্মা বরাতজোরে এখনও জীবিত। হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। অভিযোগ, তাঁর কফিতে বিষ মিশিয়ে দেন স্ত্রী পিঙ্কি। ঘটনার পরই অভিযুক্ত আস্তানা গেড়েছেন বাপের বাড়িতে। এই ঘটনাতেও উঠে আসছে পরকীয়ার ইঙ্গিত। অসুস্থ অনুজের বোন মীনাক্ষীর দাবি, দাদাকে খুনের অভিসন্ধি নিয়েই বাড়িতে ফিরেছিলেন বউদি। পুলিস এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে।
জানা যাচ্ছে, বছর দুয়েক আগে খাতাউলির বাঙ্গেলা গ্রামের বাসিন্দা অনুজের সঙ্গে বিয়ে হয় লোনি থানার ফারুকনগরের বাসিন্দা পিঙ্কির। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর আচরণে স্বামীর মনে সন্দেহ দানা বাঁধছিল। একদিন প্রেমিককে ফোন করার সময় তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন অনুজ। জানা যায়, অনুজের তুতো ভাইয়ের সঙ্গেই পিঙ্কির পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। তারপর থেকে প্রায়শই দু’জনের ঝগড়া লেগে থাকত। মীনাক্ষী জানান, সম্প্রতি গাজিয়াবাদ থানায় দাদার বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন পিঙ্কি। তার জেরে দম্পতিকে থানায় ডেকে বোঝানো হয়। তবে থানা থেকে বাড়ি ফেরার পরই বউদি জানিয়েছিলেন, কিছু একটা করার জন্য তিনি ফিরে এসেছেন। কিন্তু সেটা যে দাদাকে খুন করার জন্য তা তখন বোঝেননি মীনাক্ষী। অভিযোগ, গত ২৫ মার্চ অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পর স্বামীকে কফি দেন পিঙ্কি। সেটি পান করার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন অনুজ। তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা সঙ্কটজনক। পিঙ্কির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে অনুজের পরিবার। খাতাউলির সার্কেল অফিসার রাম আশিস যাদব বলেন, পিঙ্কি বর্তমানে তাঁর বাবা-মায়ের কাছে রয়েছেন। অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বিষকাণ্ডের পিছনে পিঙ্কিরই হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।