Bartaman Logo
২৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আরও ৭০০ ক্যামেরায় নজরদারি আর জি করে, মূল গেটে বসছে এএনপিআর

৮ আগস্ট গভীর রাত। আর জি কর হাসপাতালের ভিতরে ঢুকে ঘুমন্ত তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করে কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়।

আরও ৭০০ ক্যামেরায় নজরদারি আর জি করে, মূল গেটে বসছে এএনপিআর
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১৬:১১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৮ আগস্ট গভীর রাত। আর জি কর হাসপাতালের ভিতরে ঢুকে ঘুমন্ত তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করে কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়। সেই ঘটনার পর তোলপাড় হয় গোটা রাজ্য। সরকারি হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তার অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে পথে নামে আম জনতা। তখন প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছিল, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে আর জি করের নিরাপত্তা পরিকাঠামোর খলনলচে বদলে ফেলা হবে। সেই মতো লালবাজারের উদ্যোগ ও পরামর্শে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে এই সরকারি হাসপাতালকে। 

Advertisement

হাসপাতালের মূল গেটে বসানো হয়েছে অটোমেটিক নম্বর প্লেট রেকগনিশন (এএনপিআর) ক্যামেরা। এর ফলে হাসপাতালে ঢোকা ও বেরনোর পথে যাবতীয় গাড়ি ও বাইকের তথ্য পুলিশের নখদর্পণে থাকবে। সেই সঙ্গে হাসপাতাল ও সংলগ্ন চত্বরে প্রায় ৭০০টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। হাসপাতালের প্রতিটি তল, এমনকি সিঁড়িও এখন থেকে থাকবে নজরদারির আওতায়। এতগুলি ক্যামেরার ‘ফিড’ দেখার জন্য বিশেষ কন্ট্রোল রুম তৈরি করা হয়েছে হাসপাতাল চত্বরেই। আদালতের নির্দেশে আর জি করের অভ্যন্তরের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিআইএসএফকে। তাই এই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়েই ‘কম্বাইন্ড কন্ট্রোল রুম’ তৈরি করেছে লালবাজার। সেখানে রয়েছে জায়ান্ট স্ক্রিন। এএনপিআর ক্যামেরা সহ সাধারণ সিসি ক্যামেরার যাবতীয় ফুটেজ দেখা যাবে সেখানেই। ভবিষ্যতে হাসপাতালের ভিতরে কোনও অপরাধ ঘটলে, তদন্ত অনেক দ্রুত ও সহজে করা  যাবে বলে আশাবাদী লালবাজার। 
হাসপাতালের মূল প্রবেশদ্বারে সাধারণ সিসি ক্যামেরা বসালেই তো গাড়ির নম্বরপ্লেটের তথ্য পাওয়া যায়। তাহলে হঠাৎ কেন বিশেষ ধরনের এএনপিআর ক্যামেরার প্রয়োজন পড়ল? কলকাতা পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, এই ক্যামেরা সাধারণত বিপজ্জনক গতিতে চলা গাড়ি বা বাইককে জরিমানা করার জন্য ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া, আরও বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে এই ক্যামেরায়। অনেক সময় রাতের অন্ধকারে বা কড়া রোদে সাধারণ ক্যামেরায় নম্বর প্লেটের ছবি ঠিকমতো আসে না। এএনপিআর ক্যামেরায় রয়েছে ‘ইনফ্রারেড ইলুমিনেটর’। যার ফলে যে কোনও পরিস্থিতিতে গাড়ি-বাইকের নম্বর প্লেট দৃশ্যমান হবে। তাছাড়া এএনপিআর ক্যামেরা সমস্ত গাড়ি ও বাইকের নম্বর তার ডেটাবেসে ‘সেভ’ করে রাখতে সক্ষম। যদি কোনও গাড়ি বা বাইকে অপরাধী ঢোকে বা বেরয়, সেই নম্বর প্লেটের ছবি কলকাতা পুলিশের সার্ভারে দিলে এক নিমেষে গাড়িটির রুট ম্যাপ হাতে পেয়ে যাবে লালবাজার। শহরের আর কোন কোন এএনপিআর ক্যামেরায় সেই গাড়ি বা বাইক দেখা গিয়েছে, তাও দেখা যাবে আর জি করের কম্বাইন্ড কন্ট্রোল রুমের স্ক্রিনে। এই কারণে আর জি কর হাসপাতালের মূল গেটে দু’টি এএনপিআর ক্যামেরা বসানো হয়েছে। একটির মুখ রয়েছে রাস্তার দিকে, অন্যটি হাসপাতাল অভিমুখে। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আরও বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানতে পারে, পাঁচিল টপকে হাসপাতালের ভিতরে মাদক ঢুকত। পাচারকারীরাই সেই মাদক পৌঁছে দিত হাসপাতালের অন্দরে নির্দিষ্ট ঠিকানায়। এই ধরনের অপরাধ রুখতে পাঁচিল সংলগ্ন সমস্ত আগাছা কেটে সাফ করে দেওয়া হয়েছে। মেরামতি করা হয়েছে ভাঙা পাঁচিল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ