Bartaman Logo
২৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

২৩৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে বছরে পরিবারপিছু টার্গেট ১২০০ টাকা, গ্রাম পঞ্চায়েতকে বাড়াতে হবে নিজস্ব রোজগার

পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির বছরে পরিবারপিছু আয় ১২০০ টাকা টার্গেট। রাজস্ব বৃদ্ধির নতুন নির্দেশিকা শীঘ্রই আসছে। বিস্তারিত পড়ুন।

২৩৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে বছরে পরিবারপিছু টার্গেট ১২০০ টাকা, গ্রাম পঞ্চায়েতকে বাড়াতে হবে নিজস্ব রোজগার
  • ২৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গ্রাম পঞ্চায়েতের নিজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। প্রতিটি পঞ্চায়েত তার নিজস্ব সম্পদ এবং বাসিন্দাদের সম্পত্তি কর থেকেই রাজস্ব আদায় করে থাকে। সংগৃহীত রাজস্ব সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতের মোট পরিবারের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে পঞ্চায়েতগুলি পরিবারপিছু বছরে কত আয় করে, তা জানা যায়। সেই নিরিখে রাজ্যের মোট ৩৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতে বাসিন্দা ১ কোটি ৯২ লক্ষ পরিবার থেকে বছরে আয় হয় ৪৫১ কোটি টাকা। অর্থাৎ পরিবারপিছু বছরে আয় মাত্র ২৩৩ টাকা। এবার সেই আয় বৃদ্ধির টার্গেট আরও ৯৮৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ বছরে আয় হবে ১২০০ টাকা। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী জুলাই মাসে ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশনের প্রথম কিস্তির টাকা পাবে বাংলা। অর্থ কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, পঞ্চায়েতগুলিকে নিজস্ব রোজগার বাড়াতে হবে। রাজস্ব বাড়লে, মিলবে বাড়তি টাকা। অর্থাৎ পঞ্চায়েতের রোজগারের উপরেই নির্ভর করবে অর্থ কমিশনের বরাদ্দ। প্রসঙ্গত, বছরে পরিবারপিছু আয় গোয়ার মতো রাজ্যে এখন ১৬০০ টাকা এবং কেরলে ৭০০ টাকা। সেই নিরিখে অনেক পিছিয়ে থাকা বাংলার পঞ্চায়েতগুলির রাজস্ব বৃদ্ধি করতেই এই নয়া নিদান বিজেপি পরিচালিত সরকারের। 

Advertisement

পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মার্চ মাসে শেষ হয়েছে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের মেয়াদ। এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে ষষ্ঠ অর্থ কমিশনের সুপারিশ লাগুর প্রক্রিয়া। কমিশন রাজ্যের বরাদ্দের প্রথম কিস্তির টাকা দেবে আগামী জুলাইতে। ওই সূত্রটি জানিয়েছে, পঞ্চদশ অর্থ কমিশন পঞ্চায়েতের ত্রিস্তরের জন্য জেলা পরিষদে ১৫ শতাংশ, পঞ্চায়েত সমিতিতে ১৫ শতাংশ এবং গ্রাম পঞ্চায়েতে ৭০ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করত। অর্থাৎ সিংহভাগ অর্থ তৃণমূল স্তরের উন্নয়নের জন্য পৌঁছে দেওয়া হত পঞ্চায়েতে। এবার ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশন তার বরাদ্দে কিছুটা বদল এনেছে। কমিশন এবার জেলা পরিষদের জন্য মোট বরাদ্দের ১০ শতাংশ, পঞ্চায়েত সমিতির জন্য ১০ শতাংশ এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের জন্য ৮০ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করবে। তাই কমিশন চাইছে, সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতগুলির রোজগার বৃদ্ধিই হোক বরাদ্দের মাপকাঠি। রাজস্ব আদায়ে যে পঞ্চায়েতের পারফরম্যান্স যত ভালো হবে, কমিশনের বরাদ্দ তার জন্য বেশি হবে। 
পঞ্চায়েত দপ্তরের ওই সূত্রটি আরও জানিয়েছে, পঞ্চায়েতের নিজস্ব রাজস্ব বৃদ্ধির যে নিদান দেওয়া হচ্ছে, তার নির্দেশিকা আগামী সপ্তাহে জেলায় জেলায় পৌঁছে যাবে। বছরে বাড়তি ৯৮৬ টাকা অর্থাৎ মাসে ৮২ টাকা রোজগার বাড়ানোর এই প্রক্রিয়া যাতে শীঘ্রই শুরু করা যায়, তা নিয়েই জারি হবে এই নির্দেশিকা। এই প্রসঙ্গে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, প্রতিটি পঞ্চায়েতের নিজস্ব সম্পদ রয়েছে। মাঠ, ঘাট, পুকুর, বিল, বাণিজ্যিক জায়গা, অফিস-কাছারি থেকে রাজস্ব আদায় সম্ভব। এতদিন তা ব্যবহার করা হয়নি। নিজস্ব রাজস্ব বৃদ্ধি করতেই হবে। এতে ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশনের ভালো বরাদ্দও মিলবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ