Bartaman Logo
৪ জুন, ২০২৬

ঘোষণা সার, অষ্টম পে কমিশন গঠন হল না ৭ মাসেও, ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় কর্মীদের চিঠি সচিবকে

গঠিত হবে অষ্টম পে কমিশন—গত জানুয়ারি মাসে হয়েছে এই ঘোষণা! অনুমোদন দিয়েছিল খোদ মোদি মন্ত্রিসভা। আশায় বুক বেঁধেছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরাও।

ঘোষণা সার, অষ্টম পে কমিশন গঠন হল না ৭ মাসেও, ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় কর্মীদের চিঠি সচিবকে
  • ৫ জুলাই, ২০২৫ ১৫:০৭

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: গঠিত হবে অষ্টম পে কমিশন—গত জানুয়ারি মাসে হয়েছে এই ঘোষণা! অনুমোদন দিয়েছিল খোদ মোদি মন্ত্রিসভা। আশায় বুক বেঁধেছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরাও। মূল বেতন-মহার্ঘ ভাতা কতটা বাড়বে, হিসেবনিকেশ শুরু হয়ে গিয়েছিল। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় ছ’মাস। কিন্তু এখনও পর্যন্ত পে কমিশনের কাঠামো গঠন করা হল না। অর্থাৎ, শুরু হয়নি চেয়ারম্যান ও সদস্য মনোনয়ন পর্বই। ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ বিজ্ঞপ্তি জারি করে যতক্ষণ না পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কর্মীদের পে কমিশন আনুষ্ঠানিক গঠন করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তা কার্যত ঘোষণার স্তরে রয়ে যায়। এক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে। তাতে যারপরনাই ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিব টি ভি সোমনাথনকে চিঠি দিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশও করেছে। 

Advertisement

নতুন পে কমিশন সংক্রান্ত ঘোষণা এবং কমিশনের গঠনপর্বের মধ্যে দেরি আগেও হয়েছে। কিন্তু এতটা বিলম্ব হয়নি। সরকারি সূত্রেও আগে এপ্রসঙ্গে সপ্তম পে কমিশন গঠনের উদাহরণ টানা হয়েছিল। তবে তথ্য বলছে, সেবার ঘোষণার ১৫৬ দিন পর গঠন করা হয়েছিল কমিশনের কাঠামো। এবার সেই সময়সীমাও অতিক্রান্ত। যদিও কেন্দ্রীয় কর্মীদের মধ্যে এবার বিস্ময় এবং ক্ষোভের সঞ্চার হওয়ার প্রধান কারণ আলাদা। গত জানুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাফ জানানো হয়েছিল, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হবে অষ্টম পে কমিশন। কিন্তু জুলাই মাসেও যেহেতু পে কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হল না, সেক্ষেত্রে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে তা বলবৎ হওয়া আর সম্ভব নয়।
নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ১০ বছর অন্তর কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের জন্য পে কমিশন গঠন করা হয়। ভারতে প্রথম পে কমিশন গঠিন হয়েছিল ১৯৪৬ সালে। অর্থাৎ, স্বাধীনতার এক বছর আগে। সেই কমিশনের সুপারিশে বেতন ধার্য হয়েছিল সর্বাধিক ২ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ৫৫ টাকা। ১৯৪৭ সাল থেকে চালু হয় ওই কমিশনের সুপারিশ। তারপর থেকেই প্রতি ১০ বছর অন্তর গঠন করা হয়েছে পে কমিশন। ২০১৬ সালে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর হয়েছিল জানুয়ারি থেকে। কিন্তু এবার ঘোষণার পর প্রায় ছ’মাস কেটে যাওয়া সত্ত্বেও যেহেতু অষ্টম পে কমিশন গঠিত হল না, তাই তাদের রিপোর্ট জমা দেওয়া, সরকারের রিভিউ এবং সুপারিশ অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো বলবৎ হওয়া—সবটাই পিছিয়ে যাবে।
ন্যাশনাল কাউন্সিল জয়েন্ট কনসাল্টেটিভ মেশিনারির সদস্য হিসেবে কেন্দ্রীয় কর্মীদের সংগঠন সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিব টি ভি সোমনাথনকে চিঠি দিয়ে এব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকার কেন্দ্রীয় কর্মী সংগঠনের থেকে পরামর্শ ও প্রস্তাব চেয়ে পাঠিয়েছিল। অনেকদিন আগেই তা জানিয়ে দেওয়াও হয়েছে। অথচ পে কমিশন গঠনের ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। একটি কমিশন প্রায় ১৬ থেকে ১৮ মাস সময় নেয় রিপোর্ট জমা দিতে। এবারও সেরকমই হওয়ার সম্ভাবনা। তাহলে ২০২৬ সালে পে কমিশন চালু হওয়ার সম্ভাবনা কি ক্রমেই কমছে? 

সম্পর্কিত সংবাদ