Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘অন্নপূর্ণার’ দাঁও সাইবার কাফেতে, ফর্ম পূরণের রেট কোথাও ৩০০০, কোথাও ৫০০

হিসাব করে দেখলে, প্রতিদিন ১০০ টাকা করে মিলবে। মানে মাসে ৩ হাজার টাকা। অন্নপূর্ণা যোজনার মোট টাকার পরিমাণ কম নয়। সেই টাকা পেতে মহিলাদের পূরণ করতে হচ্ছে ১২ পাতার একটি ফর্ম।

‘অন্নপূর্ণার’ দাঁও সাইবার কাফেতে, ফর্ম পূরণের রেট কোথাও ৩০০০, কোথাও ৫০০
  • ২৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হিসাব করে দেখলে, প্রতিদিন ১০০ টাকা করে মিলবে। মানে মাসে ৩ হাজার টাকা। অন্নপূর্ণা যোজনার মোট টাকার পরিমাণ কম নয়। সেই টাকা পেতে মহিলাদের পূরণ করতে হচ্ছে ১২ পাতার একটি ফর্ম। তার বহর কম নয়। এবং আস্ত একটি ধাঁধার মতো। দেখে চোখ কপালে উঠছে মহিলাদের। তাঁদের অধিকাংশ ছুটছেন সাইবার কাফেতে। কোনো কোনো কাফে এই সুযোগে ফর্ম ফিল আপ করতে চাইছে ৩০০০ টাকা। দাঁও মারার এই সুবর্ণ সুযোগ ছাড়তে নারাজ তারা।

Advertisement

ফর্মটি বাস্তবিকই যেন আস্ত ধাঁধা। বাড়ির মা-কাকিমারা বুঝেই উঠতে পারছেন না। তাঁরা দ্বারস্থ হচ্ছেন বাড়ির অল্পবয়সি সদস্যের। ফর্মে শুধু নিজের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিলেই হবে না, পরিবারের সকলের তথ্য দিতে হচ্ছে। এতকিছু একা করা সম্ভব নয়। এই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে সাইবার কাফেগুলি। তাদের রেট চোখ কপালে তোলার মতো। ৩ হাজার থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ফর্ম ফিল আপের রেট উঠেছে বলে অভিযোগ।
দক্ষিণ শহরতলির এক সাইবার কাফের মালিকের যুক্তি, ‘১২ পাতা প্রিন্ট করতেই ৩৬ টাকা লাগে। পূরণ করতে অতিরিক্ত টাকা তো দিতেই হবে।’ এরই মধ্যে রয়েছে বিস্তর বিভ্রান্তি। যেমন, অনলাইনে ফর্ম ডাউনলোড করে অনলাইনেই জমা দেওয়ার ব্যবস্থা কি থাকবে? তা না হলে সাইবার কাফেতে যাওয়ার কি দরকার? যদি অফলাইনে জমা দিতে হয়, তবে তা কোথায় জমা দিতে হবে? এরই মধ্যে শোনা যাচ্ছে ভেরিফিকেশনের কথা। সবমিলিয়ে প্রবল বিভ্রান্তি। দক্ষিণ শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় অটোয় অন্নপূর্ণা যোজনার খুঁটিনাটি প্রচার করা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে কন্টেন্ট ক্রিয়েটররাও কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন কীভাবে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ করতে হবে তা বোঝাতে। 
ফর্মের জটিলতা চোখ কপালে তুলে দিলেও অন্নপূর্ণা যোজনাকে নিয়ে নেটিজেনরা মিম করতে ছাড়ছেন না। চলছে দেদার ঠাট্টা, তামাশা। কেউ বলছেন, যোজনার ফর্ম পূরণের জন্য আস্ত ‘সহায়িকা বই’ কেনার প্রয়োজন। কেউ বলছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার কথা শুনেই সাইবার কাফেগুলির চোখে ‘টাকার স্বপ্ন’। তবে ফর্ম পূরণ শুধু নয়, তার সঙ্গে আছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ডিবিটি’ করার বিষয়টিও। এর মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা ঢুকে যাবে। ডিবিটি করা আছে কি না জানতে অনেকে সাইবার কাফেতে ভিড় জমাচ্ছেন। কেউ সোজা যাচ্ছেন ব্যাঙ্কে লাইন দিতে। সবমিলিয়ে আবার লাইন। যেমন ছিল নোটবন্দির সময়। 
অন্নপূর্ণা যোজনার কাজ সহজেই করে ফেলা যাবে বলে আশ্বস্ত করেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। কিন্তু বাড়ির শিশুটি কোন ধরনের বিদ্যালয়ে পড়ে। টিকাকরণের শংসাপত্র। পেশার ধরন। পরিবারের সব সদস্যের নামে থাকা জমির পরিমাণ। সব তথ্যই দিতে হচ্ছে ফর্মে। এতকিছু কীভাবে পূরণ করতে হবে তার কৌশল জানে কে? সে কি করে দেবে? আপাতত এতসব প্রশ্ন মহিলাদের আতঙ্কে ফেলে দিয়েছে। অল্পবয়স্কদের অনুরোধ করছেন বা মোটা টাকা দিয়ে বাধ্য হয়ে যাচ্ছেন কাফেতে। তবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাওয়ার আশায় জটিল ফর্মটি পূরণ করার চ্যালেঞ্জ নিয়েই নিচ্ছেন কমবেশি সকলেই।

সম্পর্কিত সংবাদ