নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটের ফল ঘোষণার পর একমাসের মধ্যেই প্রতিশ্রুতি পূরণ! চালু হল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের অন্যতম স্বপ্নের প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। প্রাথমিক পর্যায়ে উপভোক্তা ২৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৬৯ জন। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা করে পাঠিয়ে পথ চলা শুরু করল সরকারের এই প্রকল্প। ক্ষমতায় এলে পূর্বতন সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বদলে বাংলার মহিলাদের প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা দেওয়ার অঙ্গীকার নির্বাচনি প্রচারে করে গিয়েছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদির সেই গ্যারান্টি পূরণ হল বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন নবান্ন সভাঘরের অনুষ্ঠানে রাজকুমারী দেবী, সুমি মণ্ডল সহ বেশ কয়েকজনের হাতে অন্নপূর্ণা যোজনার শংসাপত্র এবং চেকের রেপ্লিকা তুলে দেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সহ অন্যান্যরা। উপভোক্তাদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়ার আগেই রাজ্যের ২৮ লক্ষের বেশি মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হয় শুভেন্দুবাবুর হাত ধরে। নবান্ন সভাঘরের অনুষ্ঠান শেষে ব্লক এবং জেলাস্তরের কর্মসূচি থেকেও অন্যান্য উপভোক্তার হাতেও শংসাপত্র এবং চেকের রেপ্লিকা তুলে দেওয়া হয়।
এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য নতুন করে আবেদন জমা নেওয়া চলছে। কারণ, এসআইআর পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেখা গিয়েছে, বহু মৃত এবং রাজ্যের বাসিন্দা নন এমন ব্যক্তিরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন। এমনকি অনেক পুরুষও এই প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন। আমরা কোনো অযোগ্য ব্যক্তি বা অভারতীয়রা টাকা পাক, সেটা চাই না।’ যদিও ১ লক্ষ ২১ হাজার সিএএ আবেদনকারী এবং ১৯ হাজার সিএএ নাগরিকত্ব প্রাপকদের মধ্যে থাকা যোগ্য উপভোক্তারা অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য বিবেচিত হবেন। যাচাই প্রক্রিয়ার সাত দিনের মধ্যেই টাকা যাবে উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। আগামী তিন মাস ধরে এই কর্মসূচি চলবে। পর্যায়ক্রমে উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো চালু করা হবে।
এদিন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালও বলেন, ‘এরাজ্যে যেভাবে যাচাই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে, তা নজিরবিহীন। ভুয়ো উপভোক্তা থাকা আর সম্ভব নয়। আমাদের লক্ষ্য, একজন যোগ্য উপভোক্তাও যাতে বাদ না পড়েন। একইভাবে অযোগ্যরাও যেন টাকা না পান। সেই কারণেই আমরা রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার সাহায্য নিয়ে যাচাই প্রক্রিয়া চালাচ্ছি।’



