নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর ও চুঁচুড়া: কোথাও এই প্রথমবার, আবার কোথাও দেড়শো বছর ধরে চলছে। শনিবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে সারা রাজ্যেই হয় অন্নপূর্ণা পুজো। এদিন বারাকপুরের অন্নপূর্ণা মন্দিরে পুজো দিতে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। এবছর দেড়শ বছরে পড়ল এই অন্নপূর্ণা মন্দিরের পুজো। সকাল থেকে ভক্তরা লাইন দিয়ে মায়ের পুজো দেন। সকালে হয় কুমারী পুজো। তারপর একান্ন কেজি গোবিন্দভোগ চাল দিয়ে হয় অন্নকূট উৎসব। এরপর লক্ষাধিক ভক্তকে ভোগ বিতরণ করা হয়। দূরদূরান্তের ভক্তরা পুজো দিতে মন্দিরে ভিড় করেন। সন্ধ্যা আরতি দেখতেও বহু মানুষ মন্দিরে ভিড় করে। অনেক ভক্ত গঙ্গায় স্নান করে দণ্ডি কেটে মন্দিরে এসে পুজো দেন। এদিনের উৎসবে উপস্থিত ছিলেন বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম দাস, ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্রভাত ঘোষ প্রমুখ।
মন্দির কমিটির তরফে বিশ্বজিৎ বিশ্বাস জানান, ১৮৭৫ সালে রানি রাসমণির মেয়ে জগদম্বাদেবী এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ এই মন্দিরে প্রতিষ্ঠার দিন সহ চারবার এসেছেন। তিনিই জমি চিহ্নিত করেছিলেন। এখানে একটি বেলগাছের নীচে বসে ধ্যানও করেছিলেন। দীপ পুজো করেছিলেন স্বয়ং রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। এই মন্দিরে তিনি একবার রাত্রিবাসও করেছিলেন। মন্দিরটি দেখতে অনেকটাই দক্ষিণেশ্বরের আদলে।
অন্যদিকে, হুগলির গুড়াপের রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে শনিবার অন্নপূর্ণা পুজো হয়েছে। এবারই প্রথম মঠ ও মিশনের তরফে ওই পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। এদিন ওই পুজোর অনুষ্ঠানে গুড়াপে এসেছিলেন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সভাপতি স্বামী গৌতমানন্দ মহারাজ। এদিন তিনি গুড়াপ রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে একটি মেডিক্যাল সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন। অন্নপূর্ণা পুজোকে ঘিরে এদিন ভক্তদের বিপুল ভিড় হয়েছিল।