নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ফের পথে নেমে বিক্ষোভ-অবরোধ শুরু করলেন অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক অনুদান থেকে ‘বঞ্চিত’ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মহিলারা। উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার থেকে দক্ষিণবঙ্গের উলুবেড়িয়া—কোথাও বিডিও অফিস, কোথাও এসডিও দপ্তর, আবার কোথাও বিধায়ক সেবাকেন্দ্রে তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছেন মহিলারা। তুফানগঞ্জ, শীতলকুচি থেকে শুরু করে খড়্গপুর, আসানসোল, উদয়নারায়ণপুর, মগরাহাট মিলিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন অংশের ১৩-১৪টি প্রান্তে পথ অবরোধ করেন ক্ষুব্ধ মহিলারা। হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের কুলটিকারিতে একেবারে গেরিলা কায়দায় রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করা হয়। গোঘাট-২ নম্বর বিডিও অফিসে বিজেপি বিধায়ক প্রশান্ত দিগরকে সামনে পেয়ে বিক্ষোভ দেখান যোজনা-বঞ্চিতরা।
অন্নপূর্ণা বঞ্চিতদের বিক্ষোভ এদিন বড় আকার নেয় দক্ষিণবঙ্গের দুই প্রান্তে। বারাসত পুলিশ জেলার আমডাঙায় বিডিও অফিসের সামনে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধমুক্ত করতে গেলে মহিলাদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক ধস্তাধস্তি, হাতাহাতি হয়। দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মারধর ও নিগ্রহের অভিযোগ এনেছে। অপরদিকে আসানসোল এসডিও অফিসে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে ঢোকার চেষ্টা চালালে, বিক্ষোভকারী মহিলাদের সঙ্গে উর্দিধারীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। মহকুমা শাসকের অফিসের সামনে অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ঝামেলা হয়। জোর করে মহিলাদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ হিসাবে পালন করার সঙ্গেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকানোর ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১ কোটি ৫৮ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার প্রক্রিয়া শুরু হয় সেদিনই। কিন্তু চতুর্থ মাসের টাকা ছাড়া সত্ত্বেও কেন তাঁরা বঞ্চিত, এই অভিযোগ তুলেই এদিন বিক্ষোভ-অবরোধ শামিল হয়েছিলেন কয়েক হাজার মহিলা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, যাচাই পর্বে অযোগ্য উপভোক্তা হিসাবে যাঁদের পাওয়া গিয়েছে, টাকা আটকেছে তাঁদেরই। উপযুক্ত প্রমাণিত হলেই সংশ্লিষ্ট মহিলারা অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতা ঢুকবে। চিন্তার কিছু নেই।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত মহিলারা অবরোধ করেন উত্তরবঙ্গের তুফানগঞ্জ, শীতলকুচি, জলপাইগুড়ি সদর, আলিপুরদুয়ারের বাবুরহাট, মাথাভাঙা-শিলিগুড়ি সড়ক, ফালাকাটা-ধুপগুড়ি রোড এবং চোপড়ার জাতীয় সড়ক। এছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের মগরাহাটে বিডিও অফিস, খড়্গপুর পুরসভার সামনে, ছাতনা ও খণ্ডঘোষেও অবরোধ হয়। খড়্গপুরে পুরসভার সামনে বিক্ষোভরত মহিলাদের দাবি, অবস্থাপন্ন ঘরের মহিলারা নিয়মিত টাকা পাচ্ছেন, অথচ ১২ পাতার ফর্ম যথাযথ পূরণ করেও তাঁদের মতো নিম্নবিত্ত মহিলারা চার মাস বঞ্চিত। চন্দ্রকোণা পুরসভায় বঞ্চিত মহিলাদের বিক্ষোভে শামিল হতে দেখা যায় বিজেপির বেশ কিছু নেতা-কর্মীকেও। বিক্ষোভ চলাকালীন বিজেপির প্রতিনিধি শিবু ঘোষালকে দলেরই কিছু কর্মী টেনে- হিঁচড়ে কার্যালয় থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি অন্নপূর্ণা বঞ্চিতদের সহানুভূতির বহিঃপ্রকাশ? নাকি পুরবোর্ড দখলে বিজেপির অন্য একটি গোষ্ঠীর মরিয়া চেষ্টা? শুরু হয়েছে চর্চা।