নিজস্ব প্রতিনিধি, মুকুটমণিপুর: আজ, বুধবার রাজ্যের ১ কোটি ২০ লক্ষ মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকবে। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে হুল দিবসের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে একথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্নপূর্ণা যোজনায় আদিবাসী মহিলাদের সুবিধা পাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাজ্যের ১ কোটি ৫১ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করেছেন। আমরা সেগুলি পরীক্ষা করার পর ১ কোটি ২০ লক্ষ মা-বোনের নাম নথিভুক্ত করেছি। ১ জুলাই নথিভুক্ত সকলের অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে জমা পড়বে। সুবিধাপ্রাপকদের মধ্যে পাঁচ লক্ষ আদিবাসী মহিলাও রয়েছেন।
উল্লেখ্য, প্রায় পাঁচ বছর আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করে চমক দিয়েছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার। এবার বিধানসভা ভোটে বিজেপি ওই প্রকল্পের আওতায় মহিলাদের দ্বিগুণ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসে। বিজেপির বিপুল ভোটে জয়লাভের পিছনে মহিলাদের সমর্থন উল্লেখযোগ্য বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত। তবে রাজ্য সরকার অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য নতুন করে আবেদন করতে বলায় মহিলাদের একাংশের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অনেকেই প্রকল্প থেকে বাদ যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। যদিও বৈধ উপভোক্তাদের কাউকে ছাঁটা হবে না বলে বিজেপি নেতৃত্ব আশ্বাস দিয়েছেন।
বাঁকুড়া জেলায় প্রায় ৯লক্ষ ২৫ হাজার মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন। এসআইআরের পর প্রায় ৭০ হাজার নাম বাদ পড়ে। বাকিদের মধ্যে প্রথম মাসে দেড় লক্ষ মহিলাকে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় টাকা দেওয়া হয়। বাকি জমা পড়া ফর্ম সরকারের নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোডের কাজ দ্রুততার সঙ্গে চলছে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সভায় উপস্থিত রানিবাঁধের ঝিলিমিলির বাসিন্দা শুকুরমণি হাঁসদা এবং রাইপুরের শ্যামসুন্দরপুরের কুসুম মাহাত বলেন, আমরা আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেতাম। ১২ পাতার ফর্ম জমা দেওয়া নিয়ে মহিলাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। প্রথম দফায় আমাদের এলাকার অনেকে টাকা পাননি। এমাস থেকে টাকা পাব বলে আমরা আশায় আছি। মুখ্যমন্ত্রী এদিন ১ কোটি ২০ লক্ষ মহিলাকে যোজনায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা ঘোষণা করায় আমরা আশায় রয়েছি। নতুন সরকারের কাজকর্মে আমরা খুশি।