


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: চার হাজার কেজি ভোগ নিবেদন করে অন্নকূট উৎসব পালিত হল নৈহাটি বড় মা মন্দিরে। এই বিশেষ পুজো ও হোম-যজ্ঞ দেখতে কার্যত জনপ্লাবন নৈহাটিতে। কয়েক হাজার ভক্ত দিনভর প্রতীক্ষা করে পুষ্পাঞ্জলি দিতে পেরেছেন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে প্রসাদ নিয়েছেন। ভিড়ের কারণে অরবিন্দ রোডে যান চলাচল প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায়। পুলিসি নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। বড় ধরনের কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি।
নৈহাটির বড় মা দর্শনে প্রতিদিনই হাজার হাজার ভক্তের ভিড় হয়। কালীপুজো ছাড়াও বিশেষ পুজোর দিনগুলি জনজোয়ারে ভাসে নৈহাটি। বিদেশ ও ভিন রাজ্যের ভক্তদের পুজো দেওয়ার জন্য অনলাইন ব্যবস্থা আছে। এদিন অন্নকূট উৎসবকে ঘিরে মন্দির কর্তৃপক্ষ আয়োজনে ত্রুটি রাখেনি। চার হাজার কেজির ভোগের পাহাড় তৈরি হয়েছিল। মন্দিরে বড় মা’র পাশাপাশি অন্নপূর্ণা দেবীরও মূর্তি আছে। দুই দেবীরই পুজো হয় এদিন। ভোগে ছিল পোলাও, আলুর দম, পাঁচ রকমের ভাজা, চাটনি ও পায়েস। ভোগ নিবেদনের পর কুপন নিয়ে মানুষ অন্নকূট নিয়েছেন। বিকেল তিনটে থেকে সাধারণ ভক্তদের মধ্যে তা বিতরণ করেছে ট্রাস্ট। দুপুরের পর সাধরণ মানুষের পুজো দেওয়ার জন্য মন্দির খুলে দেওয়া হয়েছিল। পাঁচ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের বড় মা’র মূর্তি পুজো করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নেয় মন্দির কর্তৃপক্ষ। এদিন জনজোয়ার সামাল দিতে বারাকপুর কমিশনারেট কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল। বিভিন্ন থানা বাহিনী মোতায়েন করে। উৎসব উদ্যোক্তাদের অন্যতম সদস্য হলেন নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান ও বড় মা কালীপুজো সমিতি ট্রাস্টের সভাপতি অশোক চট্টোপাধ্যায়, সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য প্রমুখ। তাপসবাবু বলেন, গত ১২ বছর ধরে বড় মা’র মন্দিরে অন্নকূট উৎসব হয়ে আসছে। বড় মা শুধু নৈহাটির মানুষের নন, তাঁর ভক্ত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে। কথিত আছে, ভক্তরা বড় মা’র কাছে যা চাইবেন, তাই পাবেন। নিজস্ব চিত্র