সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: ঝাড়খণ্ডের জামতাড়াকে পিছনে ফেলে পুরুলিয়া হয়ে উঠেছে সাইবার প্রতারণার অন্যতম কেন্দ্র। জেলাজুড়ে তার জাল বিস্তৃত হয়েছে। জেলা সাইবার থানার পুলিশ ৪১ এমন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ পেয়েছে যে অ্যাকাউন্টগুলিতে প্রতারণার টাকা লেনদেন হয়েছে। পরিভাষায় এ ধরনের অ্যাকাউন্টকে বলা হয় মিউল অ্যাকাউন্ট। ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে প্রায় ২৫ লক্ষ প্রতারণার টাকা লেনদেন হয়েছে বলে খবর। বৃহস্পতিবার রাতে পুরুলিয়ার সাইবার থানার পুলিশ সাঁতুড়ি থানা এলাকার এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম বিবেক পরামানিক। তার বাড়ি মধুকুণ্ডা এলাকায়। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য হেফাজতে চেয়ে শুক্রবার পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত হয়েছে। অ্যাকাউন্টটি তার একটি দোকানের নামে খোলা হয়েছিল। যে অ্যাকাউন্টে প্রতারণার টাকা লেনদেন হতো। তবে এই কাজে সে নিজে জড়িত, নাকি তার অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে টাকা লেনদেন করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ার মতো শান্ত জেলাকে সাইবার প্রতারকরা টার্গেট করেছে। তারা এজেন্ট তৈরি করে মোটা কমিশনের লোভ দেখিয়ে যুবক, মহিলাদের ভুল বুঝিয়ে এটিএম, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে প্রতারণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সাইবার প্রতারণা টাকা লেনদেন হয়েছে, পুলিশ আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে এমন ২৩১ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হদিশ পায়। সেই ঘটনায় ১৭ জনের বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে। তারপর নভেম্বর মাসে পুলিশের হাতে আবার নতুন করে ৪১ অ্যাকাউন্টের তথ্য এসেছে। ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে প্রতারণার টাকা লেনদেন হয়েছে। পুলিশের দাবি, বিভিন্ন জায়গায় ভিন রাজ্যে লক্ষ লক্ষ টাকা জঙ্গলমহলের পুরুলিয়ার মতো অন্যান্য জেলাতেও সাইবার জালিয়াতির চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফোনে অথবা প্রতারণার টাকা এই জেলার শতাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে সেই টাকা চেক অথবা এটিএমের মাধ্যমে তুলে নেয় চক্রে জড়িত ব্যক্তিরা।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে চক্রের পর্দা ফাঁস করে সাইবার প্রতারণা নির্মূল করতে পুলিশ ও পুরুলিয়া সাইবার ক্রাইম থানা বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। জাতীয় সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালের মাধ্যমে ‘সাইবার প্রহার’ অভিযান শুরু হয়েছে। সেই সূত্রেই তাঁরা জানতে পারেন, বিভিন্ন জায়গায় সাইবার ক্রাইমে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা ৪১ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে। ওই ৪১ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পুরুলিয়ার বিভিন্ন ব্যাঙ্কের।
পুলিশের এক আধিকারিক জানান, অনেক সময় মানুষকে অর্থ বা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নেওয়া হয়। পরে সেই অ্যাকাউন্টই সাইবার প্রতারণার টাকা লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা হয়। আমরা প্রতিটি অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। এর পিছনে বড় আন্তঃরাজ্য চক্র কাজ করছে। যারা পুরুলিয়ার মতো জেলার সহজ সরল মানুষকে টার্গেট করছে।
এদিকে সাইবার অপরাধ বাড়তে থাকায় উদ্বিগ্ন জেলা প্রশাসন। পুলিশের তরফে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করা হয়েছে, অচেনা কোনো লিঙ্কে ক্লিক করবেন না। নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, এটিএম পিন, ওটিপি কাউকে দেবেন না। বেশি টাকা আয়ের প্রলোভনে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া দেবেন না। তারপরেও কিছু মানুষ প্রতারকদের পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছে।



