সংবাদদাতা, কল্যাণী: যমালয়ে জীবন্ত মানুষ সিনেমায় ষাঁড়ের তাণ্ডবের দৃশ্য অনেকেরই অল্পবিস্তর মনে রয়েছে। যমরাজকে পর্যন্ত ক্ষ্যাপা ষাঁড়ের হাত থেকে বাঁচতে ইন্দ্র’র দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। সেরকমই একটি ষাঁড় হল, ‘ভোলা মস্তান’। তার হাত থেকে বাঁচতে কল্যাণীর বাসিন্দাদের যেতে হল পুরসভার কাছে।
ষাঁড়টি কথায় কথায় মানুষকে আচমকা দিচ্ছে গুঁতিয়ে। কখনও টোটো বা গাড়ি দেখলে তাড়া করছে। এখন তাকে দেখলেই উল্টো পথে হাঁটা দিচ্ছে কল্যাণীর মানুষ। প্রাণীটির গুন্ডামি দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। সব দেখছে শুনছে পুলিস। কিন্তু কিছু করতে পারছে না। ফলে নাজেহাল অবস্থা কল্যাণী শহরের দু’নম্বর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষের। বিশাল আকৃতির ষাঁড়টির নাম স্থানীয়রা দিয়েছিলেন ‘ভোলা’। সেই ভোলাই নাম ভুলিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে সকলের। অবশেষে ঘুমপাড়ানি ইঞ্জেকশনের সাহায্যে প্রাণীটিকে কাবু করে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। বুধবার কল্যাণী পুরসভা দিনভর ব্যস্ত ছিল ‘অপারেশন ভোলা’ নিয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর ধরে বাদামি-কালো রঙের ষাঁড়টি বাজার এলাকায় থাকছে। প্রথমদিকে স্বভাব ভালোই ছিল। ব্যবসায়ীরাই ভালোবেসে নাম দিয়েছিলেন ভোলা। কিন্তু গত কয়েকমাস ধরে ষাঁড়টি বেচাল হয়ে উঠেছে। যখন তখন গুঁতিয়ে দিচ্ছে। গাড়ি, মোটর সাইকেল তাড়া করছে। একাধিক মানুষ বহুবার কল্যাণী পুরসভা ও পুলিস, দমকল, বন বিভাগের কাছে অভিযোগ জানায়। বনবিভাগ বলে, তারা বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করে। পুলিস ও দমকল কিছু করার নেই জানিয়ে দেয়। অবশেষে কল্যাণী পুরসভা উদ্যোগ নিয়ে মহকুমা শাসক, পুলিস, দমকল, বনদপ্তর, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরকে নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকে বসে। এরপর প্রাণিসম্পদ বিকাশ দুই চিকিৎসকে নিয়ে এদিন বেলা এগারোটা নাগাদ অভিযানে নামে। ষাঁড়টিকে ঘুমপাড়ানি ইনজেকশন দিয়ে কাবু করা হয়। সংজ্ঞাহীন প্রাণীটিকে গাড়িতে তুলতে হিমশিম খেতে হয় সকলকে। দড়ি-বাঁশ দিয়ে বেঁধে টেনে তুলতে হয় ছোট লরিতে। এরপর শহর থেকে খানিক দূরে পিঞ্জিরাপোল সোসাইটি এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তারপর স্বস্তি পায় শহরবাসী। পুরসভার চেয়ারম্যান নীলিমেশ রায়চৌধুরী বলেন, ‘ষাঁড়টির কোনরকম ক্ষতি না করে অন্যত্র সরানো গিয়েছে।’ নিজস্ব চিত্র