Bartaman Logo
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুজোর আগেই কাটোয়া পুরসভার ১০৪ অস্থায়ী কর্মী ছাঁটাই ঘিরে ক্ষোভ

দাঁইহাটের পর এবার কাটোয়া পুরসভা। কর্মী ছাঁটাই-এর পথেই হাঁটল পুর কর্তৃপক্ষ। পুজোর আগেই কাটোয়া পুরসভার ১০৪ জন অস্থায়ী কর্মীকে ছাঁটাই করল পুরসভা

পুজোর আগেই কাটোয়া পুরসভার ১০৪ অস্থায়ী কর্মী ছাঁটাই ঘিরে ক্ষোভ
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া : দাঁইহাটের পর এবার কাটোয়া পুরসভা। কর্মী ছাঁটাই-এর পথেই হাঁটল পুর কর্তৃপক্ষ। পুজোর আগেই কাটোয়া পুরসভার ১০৪ জন অস্থায়ী কর্মীকে ছাঁটাই করল পুরসভা৷ মঙ্গলবার কাজের পর হাজিরা খাতায় সই করতে গিয়ে তাঁরা দেখেন লালকালি দেওয়া রয়েছে! এরপরেই তাঁদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় কাজ নেই৷ এই ঘোষণা শুনে তাঁদের মাথায় কার্যত আকাশ ভেঙে পড়ে৷ ঘটনায় চরম ক্ষোভ ছড়িয়েছে শহরজুড়ে৷ পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার চঞ্চল কুমার মণ্ডল বলেন, অতিরিক্ত অস্থায়ী কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে।  

Advertisement

কয়েকদিন ধরেই কাটোয়া শহরে গুঞ্জন চলছিল। অস্থায়ী কর্মী ছাঁটাই করতে পারে পুরসভা৷ কারণ কত সংখ্যক অস্থায়ী কর্মী কতদিন ধরে রয়েছেন। তাঁরা কী ধরনের কাজ করেন। কোথা থেকে তাঁদের বেতন দেওয়া হত। এসব নিয়ে সমীক্ষা চালানো হয়। তারপরেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরসভার স্বাস্থ্য, সাফাই, ট্রাফিক বিভাগ এসব থেকে কর্মীদের ছাঁটাই করা হয়। তাঁদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে পুরসভায় কাজ করতেন। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাঁটাই হওয়া ১০৪ জন কর্মীর মধ্যে ৬১ জন সাফাই কর্মী ছিলেন৷ তাঁদের দৈনিক ১৭৫ টাকা মজুরি দেওয়া হত৷ আর ৪৩ জন অস্থায়ী কর্মীকে দৈনিক ৩৩০ টাকা মজুরি দেওয়া হত৷ ওই ৪৩ জনের মধ্যে পুরসভার স্বাস্থ্য, ট্রাফিক বিভাগের কর্মীরাও রয়েছেন৷ শহরে যান নিয়ন্ত্রণের জন্য ৬ জন কর্মীকে নিয়োগ করা হয়েছিল৷ তাঁদের শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে যান নিয়ন্ত্রণ করতে পাঠানো হত। সব ছাঁটাই করা হয়েছে। 
ছাঁটাই হওয়া কর্মী আরতি রাউত বলেন, আমি দীর্ঘ বছর ধরে পুরসভায় কাজ করছিলাম৷ এতেই আমার সংসার চলত৷ ঋণ নিয়েছি৷ পুজোর আগে আমাদের পেটে লাথি মারা হল৷ মরা ছাড়া আমাদের গতি নেই৷ 
পূর্ণিমা হাজরার ক্ষোভ, এখন আমাদের সংসার চলবে কীভাবে। এভাবে আমাদের মতো গরিবদের পেটে লাথি মারা হল।  এখন আমাদের গোটা পরিবার শেষ হয়ে যাবে৷ সাফাই কর্মী পূজা হরিজন, প্রিয়া হরিজনরা বলেন, শহরে আবর্জনা পরিষ্কার করি। আর সেই আমাদের পেটেই লাথি মারা হল৷  স্বাভাবিকভাবেই কাটোয়া শহর জুড়ে সাফাই নিয়ে এবার শঙ্কা তৈরি হয়েছে৷ যেভাবে সাফাই কর্মীদের ছাঁটাই করা হয়েছে, তাতে বর্ষায় শহরকে কীভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা হবে তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
প্রসঙ্গত, জুলাই  মাসে দাঁইহাটেও প্রায় দু’শো অস্থায়ী কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছিল৷ পালাবদলের পরেই রাজ্য পুরসভাগুলিতে অতিরিক্ত অস্থায়ী কর্মীদের নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দেশ দিয়েছে৷ এরপরেই সব পুরসভায় সমীক্ষা করা হয়৷  এবার তাঁদের উপরে সরাসরি কোপ পড়ল বলে জানা গিয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ