সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: রোগীকে ওটিতে তোলা হয়েছে। তড়িঘড়ি করে এলেন অ্যানাস্থেটিস্ট চিকিৎসক। কিছুক্ষণের মধ্যেই বেরিয়ে গেলেন অন্য নার্সিংহোমে। জ্ঞান ফিরিয়ে রোগীকে বেডে দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার সময় নেই। নগদ টাকা। যত নার্সিংহোমে যেতে পারবেন, ততই ভারী হবে পকেট। রোগীর কী হল, তাতে তাঁদের কিছু যায় আসে না। রোগীর মৃত্যু হলেও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস দেখায় না প্রশাসন। চার দিন আগে নবাবহাটে একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যুর জন্য অ্যান্যাস্থেটিষ্টকেই দায়ী করেছেন রোগীর পরিবারের লোকজনরা। যিনি অপারেশন করেছেন, তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
গলিসর বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, কিছু চিকিৎসকের দায়সারা কাজের বিষয়টি কানে এসেছে। রোগীরা পণ্য নয়। এটা চিকিৎসকদের ভাবা দরকার। অনেক নার্সিংহোমে পরিকাঠামো না থাকার পরও অপারেশন হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যদপ্তরের সঙ্গে কথা বলব। যেসমস্ত চিকিৎসক টাকা রোজগারের জন্য রোগীদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নবাবহাটে ভর্তি থাকা এক রোগীর আত্মীয় তনু দাস বলেন, কোনো চিকিৎসক অপারেশন করবেন বা অন্যাসথেসিয়া দেবেন, সেটাও জানানো হয় না। সব থেকে অবাক হতে হয় কিছু অন্যাস্থেটিস্টকে দেখে। দ্রুত নার্সিংহোমে ঢুকে অন্যাসথেসিয়া দিয়ে অপারেশন হলেই বেরিয়ে যাচ্ছেন। যিনি অপারেশন করছেন, তিনিও রোগীর কোনো শারীরিক অবনতি হচ্ছে কি না, সেটা খেয়াল রাখছেন না। তিনিও অন্য অপারেশন করার জন্য বেরিয়ে যাচ্ছেন। ফলে অপারেশনের পর কোনো রোগীর শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে দেখার কেউ থাকছে না।
১০৮ শিবমন্দিরে ওই নার্সিংহোমে মৃত শিশুর আত্মীয়দেরও একই অভিযোগ। তাঁরা বলেন, অপারেশনের পরই চার বছরের শিশুটি বমি করতে থাকে। অপারেশনের পরই চিকিৎসকরা চলে গিয়েছিলেন। নার্সিংহোম অ্যাসোসিয়াশনের পক্ষে শেখ আলহাজউদ্দিন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে।
ভাতারের বিধায়ক সৌমেন কার্ফা বলেন, তৃণমূলের জমানা থেকে কিছু নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ এবং কিছু চিকিৎসক বেপরোয়া মনোভাব দেখাচ্ছেন। আগামী দিনে সেটা করতে পারবেন না। চিকিৎসার গাফিলতিতে কোনো রোগী মৃত্যু হয়েছে প্রমাণ হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, কয়েকজন চিকিৎসক নজরে রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নার্সিংহোমগুলির পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামো রাখতে হবে। না হলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে। সম্প্রতি তিন চারজন রোগীর মৃত্যু নিয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থদপ্তরও নজরদারি চালাচ্ছে।