Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অনিয়ন্ত্রিত যানজটে বিপর্যস্ত আন্দুল রোড, ঘটনাস্থলে যেতে হিমশিম দশা পুলিশেরও

ঘটনাস্থল থেকে নির্দিষ্ট সময়ে খবর পৌঁছেছিল থানায়। সেইমতো তড়িঘড়ি রওনা দেন পুলিশ কর্মীরা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছতে গিয়েই বিপত্তি।

অনিয়ন্ত্রিত যানজটে বিপর্যস্ত আন্দুল রোড, ঘটনাস্থলে যেতে হিমশিম দশা পুলিশেরও
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ঘটনাস্থল থেকে নির্দিষ্ট সময়ে খবর পৌঁছেছিল থানায়। সেইমতো তড়িঘড়ি রওনা দেন পুলিশ কর্মীরা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছতে গিয়েই বিপত্তি। মাত্র কয়েক কিমি পথ পেরতেই লেগে গেল তিনগুণ সময়। সৌজন্যে হাওড়ার আন্দুল রোডের অসহনীয় যানজট। যানজটের জেরে এখন শুধু সাধারণ মানুষ নয়, চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন খোদ এজেসি বোস বি গার্ডেন থানার পুলিশ কর্মীরাও। পুলিশের দাবি, স্বাভাবিক অবস্থায় যেখানে ১৫ মিনিটে পৌঁছানো যায়, সেখানে কখনও কখনও সময় লাগছে ৪৫ মিনিটেরও বেশি।

Advertisement

পুলিশ ও ট্রাফিক সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত নামলেই আন্দুল রোড কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে ভারী পণ্যবাহী লরির চাপে। রাস্তার দু’পাশে গজিয়ে ওঠা অস্থায়ী ভ্যাট, ফুটপাত দখল করে ব্যবসা, বেআইনি পার্কিং এবং অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের জেরে সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। শালিমার থেকে হাঁসখালি পোল পর্যন্ত অংশের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। দিনের বেলায় সরকারি-বেসরকারি বাস, লরি, ছোটো গাড়ি, বাইক ও টোটোর চাপে নাজেহাল অবস্থা থাকে। সন্ধ্যার পর সেই ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সমস্যা বাড়িয়েছে জাতীয় সড়ক থেকে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর দিকে যাওয়া ভারী ট্রাক ও ট্রেলারের অনিয়ন্ত্রিত যাতায়াত। আন্দুল রোডের পাশেই অবস্থিত এজেসি বোস বি গার্ডেন থানা। এই থানার এলাকা বিস্তৃত। শালিমার স্টেশন এলাকা থেকে শুরু করে বকুলতলা, পদ্মপুকুর রেলগেট, ক্যারি রোড ও বাকসাড়ার বড় অংশ এই থানার আওতায়। ফলে কোনও ঘটনার খবর পেলে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছানো এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে পুলিশের কাছে। পুলিশের দাবি, সন্ধ্যার পর থানা থেকে ছোট গাড়ি করে বেরলেও যানজটে আটকে পড়তে হচ্ছে। মেইন রোড সংলগ্ন অলিগলিতেও যানবাহনের চাপ থাকায় শর্টকাটে যাওয়ার সুযোগ নেই। বাধ্য হয়ে বড়ো ঘটনার ক্ষেত্রে বাইক নিয়েই ছুটতে হচ্ছে পুলিশ কর্মীদের।

হাওড়া সিটি পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, কোনা এক্সপ্রেসওয়ের উপর এলিভেটেড করিডরের কাজ চলায় সন্ধ্যার পর ওই রাস্তায় ভারী যান চলাচলের চাপ কমাতে বিকল্প হিসেবে আন্দুল রোড ব্যবহার করা হচ্ছে। ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে দ্বিতীয় হুগলি সেতু হয়ে কলকাতাগামী লরিগুলিকে আলমপুর মোড় থেকেই ঘুরিয়ে আন্দুল রোডে ঢোকানো হচ্ছে। কোনা এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ডাইভারশন বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে, বি গার্ডেন থানা এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু পুলিশ নয়, দমকলের গাড়িও সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছে না। বড়ো অগ্নিকাণ্ড বা জরুরি পরিস্থিতিতে এই যানজট যে ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে, তা নিয়ে কারও সন্দেহ নেই। পুলিশ মনে করছে, যানজটের এই সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে বড়ো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ