নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভারতে এই প্রথমবার আন্দামান ও নিকোবর দীপপুঞ্জে হাইড্রোজেন উত্তোলনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সম্ভাবনার পিছনে অবদান রয়েছে জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (জিএসআই)। আগামী ৪ মার্চ ১৭৫ বছর পূর্ণ করতে চলেছে ভারত সরকারের এই প্রতিষ্ঠান। বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানের নির্দেশক অসিত সাহা জানান, এবার দেশের গণ্ডি ছেড়ে বিদেশের মাটিতেও খনিজের সন্ধানে পা রেখেছে জিএসআই। আফ্রিকার সোমালিয়ার পর জাম্বিয়াতে গবেষণা শুরু হবে। অসিত সাহা বলেন, ‘মূলত আফ্রিকান দেশগুলোতে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করা হয়েছে। সোমালিয়াতে আগেই শুরু হয়েছিল। এবার জাম্বিয়াতেও খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।’ দক্ষিণ আন্দামানে প্রাকৃতিক হাইড্রোজেন গ্যাসের খোঁজ চলছে। এই বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। আইআইটি (আইএসএম) ধানবাদের সঙ্গে যৌথভাবে এই কাজ চলছে। বাংলার বিভিন্ন জেলায় খনিজের সন্ধান ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সেই বিষয়েও কাজ করছে জিএসআই। নির্দেশক বলেন, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামে খনিজের সন্ধান চলছে। এর পাশাপাশি নদীয়া, মুর্শিদাবাদে নদী ভাঙন ও পানীয় জলে আর্সেনিকের উপস্থিতি এবং তার প্রতিরোধ কীভাবে করা যায়, তাও বলে দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। ভূমি ধস নিয়ে পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রেও কাজ করছে এই প্রতিষ্ঠান। দ্য ন্যাশনাল ল্যান্ডস্লাইড ফোরকাস্টিং সেন্টার দার্জিলিং, কালিম্পং ও তামিলনাড়ুর নীলগিরির জন্য ভূমি ধসের পূর্বাভাস দিচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সারা দেশের সমস্ত ভূমি ধসপ্রবণ এলাকায় ব্যাপ্তি বিস্তারের লক্ষ্য নিয়েছে। এছাড়াও জিএসআই বিভিন্ন রাজ্যে ৩৫টিরও বেশি জিও হেরিটেজ সাইট চিহ্নিত করেছে। আগামী দিনে স্বয়ংক্রিয় বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে জিওসায়েন্টিফিক তথ্য বিশ্লেষণের পরিধি বাড়াবে এই প্রতিষ্ঠান। জিও এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজের সুযোগ বৃদ্ধি ও বিশ্বজুড়ে জিওসায়েন্স ভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।



