অমরাবতী: মঙ্গলবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলে ওঙ্গোলের কাছে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় মুরাশু। যার প্রভাবে রাজ্যের একাধিক উপকূলীয় জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে বিপর্যস্ত জনজীবন। উপড়ে পড়েছে হাজার হাজার গাছ, কয়েকশো বিদ্যুতের খুঁটি। ভেসে গিয়েছে মাছ ধরার নৌকা। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে কৃষিকাজেও।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর ৩টে ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করে ঘূর্ণিঝড়টি। টানা বৃষ্টিতে রাজ্যের একাধিক জেলার বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। জাতীয় সড়কেও ব্যাহত হয় যান চলাচল। বিজয়ওয়াড়া-ওঙ্গোল-গুডুর শাখায় একাধিক ট্রেন বন্ধ রাখা হয়। আবহাওয়া দপ্তরের। রাডারের ছবিতে বাপটলা, প্রকাশম, কৃষ্ণা, এনটিআর এবং গুন্টুর জেলায় মেঘপুঞ্জ দেখা দিয়েছে। ওই জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টি, কোথাও কোথাও অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নান্দিয়াল, নেল্লোর, তিরুপতি, এলুরু, পশ্চিম গোদাবরী এবং পূর্ব গোদাবরী জেলাতেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। প্রাথমিক সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের ১৫টি জেলায় প্রায় ৩১ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই মোতায়েন করা হয়েছে এনডিআরএফের ১১টি এবং এসডিআরএফের ১৩টি দলকে। আশ্রয়শিবিরে সরানো হয়েছে অন্তত ১১ হাজার মানুষকে। পরপর ঘূর্ণিঝড়ের ধাক্কায় রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতির পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু।
মুরাশুর প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী ওড়িশা ও তামিলনাড়ুতেও। ওড়িশার দক্ষিণের জেলাগুলিতে হালকা বৃষ্টিপাত হয়েছে। রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রী সুরেশ পূজারি জানিয়েছেন, কোরাপুট, মালকানগিরি, কন্ধমাল, কালাহান্ডি-সহ একাধিক জেলার জেলাশাসকরা হালকা বৃষ্টির খবর দিয়েছেন। অন্যদিকে, তামিলনাড়ুতে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টির তীব্রতা বেড়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ও সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মধ্যরাত থেকেই পুদুচেরিতে একটানা বৃষ্টি হচ্ছে।



