নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর কলকাতার নিমতলায় একটি প্রাচীন শিবমন্দির আছে। সেটির নাম দুর্গেশ্বর শিবমন্দির। লোকমুখে সেটি মোটা মহাদেবের শিবমন্দির নামে পরিচিত। আটচালার মন্দিরটি ঢাকা পড়ে গিয়েছে বিশাল লম্বা বটের ঝুরিতে। স্থানীয় মানুষ বলে, শিব লিঙ্গটি বিশাল বলেই শিবের নাম মোটা বাবা।
শৈব মন্দিরটিতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, লোহার সিঁড়ি বেয়ে উঠে তবেই শিবলিঙ্গের মাথায় জল ঢালতে পারছেন ভক্তরা। তাঁদের বিশ্বাস, মোটা বাবার কাছে কোনো কিছু মানত করলে মনোস্কামনা পূর্ণ হয়। সে কারণে কলকাতা ছাড়িয়ে আশপাশের জেলা থেকেও বহু মানুষ আসে ঠাকুরের মাথায় জল ঢালতে।
হেরিটেজ ঘোষিত ওই মন্দির ঘিরে আছে নানা ধরনের কথা ও কাহিনি। কথিত, একদিন সকালে মন্দির খুলে দেখা গিয়েছিল শিব লিঙ্গটি উধাও। এরপর নিমতলার গঙ্গার ঘাট থেকে উদ্ধার করা হয় সেটি। তারপর থেকে মোটা বাবাকে বেঁধে রাখা হয় লোহার শিকল দিয়ে। যদিও স্থানীয় মানুষের কথায়, ‘এসব স্রেফ গল্প ছাড়া কিছু নয়।’ এ নিয়ে কেউ বড়ো কোনো তথ্যপ্রমাণ দিতে পারেননি। মন্দিরের ভিতর ঢুকলে কেমন গা ছম ছম করে। নির্জন দুপুরে দেখা যায় ধুনো‑কর্পূর জ্বেলে কিছু মানুষ আরতি করছেন। মনোবাসনা পূর্ণ করতে বটের ঝুরিতে বেঁধে দিচ্ছেন ছোটো ইটের টুকরো কিংবা পোড়া মাটির ছোটো ঘোড়া। কাউকে দেখা যায় মন্দিরে বসে নিষ্ঠা সহকারে শিবের ব্রত পাঠ করতে।
নিমতলা ঘাট স্ট্রিটের মানুষরা জানান, ইতিহাসের সাক্ষী নিয়ে বয়ে চলা ভগ্নপ্রায় এই প্রাচীন শিব মন্দিরের সংস্কার ও সংরক্ষণ নিয়ে আছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, গত ২৫ বছরে একাধিকবার মন্দির সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বারবার সে কাজে বাধা আসে। কখনো ঝড়‑বৃষ্টি, কখন বিকট শব্দে বাজ পড়া, কখনও অন্য কোনো কারণে কাজ বারবার পিছিয়ে যায়। মন্দির বেয়ে নেমে আসা বটের ঝুড়ি কাটতে বড়ো আকারের মই ও নানা ধরনের যন্ত্রপাতি এবং দড়ি আনা হয়েছিল। কিন্তু বারবারই কোনো না কোনো কারণে সেই কাজে বিঘ্ন ঘটে। সে কারণে মন্দির যে অবস্থায় ছিল সেই অবস্থাতাতেই রয়ে গিয়েছে। যত দিন যাচ্ছে সেটির গায়ের ভাস্কর্য ধ্বংস হচ্ছে। মন্দিরের গায়ে জন্মাচ্ছে জংলি গাছ‑গাছালি। শিবরাত্রি, নীল ষষ্ঠী ছাড়াও প্রতি সোমবার এখানে শিবের মাথায় জল ঢালতে ভক্ত সমাগম হয়। শ্রাবণমাসজুড়ে ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো।