নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সাফল্যের শিখরে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এক ছাত্রী। সালানপুর থানার রূপনারায়ণপুরের অনন্যা সিকদার যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা জয় করে হয়ে উঠেছেন সাফল্যের মুখ। দু’হাতের দশ আঙুলের মধ্যে মাত্র চারটি আঙুল সচল এই মেয়ের। ডান হাতের রেডিয়াস হাড়ই নেই। কিন্তু এরপরও আইআইটি খড়গপুর থেকে সাফল্যের সঙ্গে ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসাবে চাকরি পেলেন এই কৃতী। মা আইসিডিএস কর্মী, বাবা জীবনবিমার এজেন্ট। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের এই মেয়ের তাকলাগানো সাফল্যে রূপানারায়ণপুবাসী গর্বিত।
রূপনারায়ণপুর দুর্গামন্দির এলাকার বাসিন্দা অনিমা সিকদার পেশায় আইসিডিএস কর্মী। জন্মের পরই বোঝা গিয়েছিল মেয়ের ডান হাতের কনুই থেকে চেটো পর্যন্ত বিকাশ হয়নি। চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি রেডিয়াস ক্লাব হ্যান্ড ডিফর্মেশনে আক্রান্ত। রেডিয়াস হাড়ই নেই অনন্যার ডান হাতে। পাশাপাশি বাম হাতের বুড়ো আঙুলও নেই। ১৭ বার অস্ত্রোপচার করেও লাভ হয়নি। কিন্তু এরপরও হাল ছাড়েননি অনিমাদেবী। ওই অবস্থাতেই মেয়ে বাম হাতের চারটি আঙুলের ভরসায় লেখাপড়া শুরু করে। মায়ের জেদ যেন মেয়ের মধ্যেও সঞ্চারিত হয়েছিল। সবাইকে টেক্কা দিয়ে স্কুলে প্রথম হতে থাকে অনন্যা। ওই কৃতী মাধ্যমিকের আগে থেকেই স্বপ্ন দেখত ডেটা সায়েন্টিস্ট হবেন।
উচ্চ মাধ্যমিকের পর এন্ট্রান্স পরীক্ষায় সফল হয়ে আইআইটি খড়গপুরে ইলেকট্রনিক্স অ্যাণ্ড ইলেকট্রিক্যাল কমিউনিকেশন বিভাগে বিটেক কোর্সে ভর্তি হন। এবছরই ছিল অনন্যার চূড়ান্ত বর্ষ। বিটেক পাশের আগেই আইআইটিতে ক্যাম্পাসিং হয়। সেখানেই একটি নামী বহুজাতিক সংস্থায় ডেটা সায়েন্টিস্ট পদে চাকরির অফার পেয়েছেন অনন্যা। আগামী ১৩ জুলাই তিনি কাজে যোগ দেবেন।
ওই কৃতীর কথায়, স্বামী বিবেকানন্দের বই পড়ে অনুপ্রাণিত হয়েছি। অবসর সময়ে ছবি আঁকতে ও গান গাইতে ভালো লাগে। এছাড়া দাবা খেলা খুব পছন্দের। আইআইটিতে দাবা প্রতিযোগিতায় সোনাও পেয়েছি।