Bartaman Logo
১৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডবল ব্যারেল চ্যানেলের উপর গড়ে উঠেছে বেআইনি নির্মাণ-পার্কিং লট, কড়া বার্তা মন্ত্রীর হাওড়ায় নিকাশি ব্যবস্থাকে বাঁচানোর দাবি বাসিন্দাদের

হাওড়ার ডবল ব্যারেল চ্যানেলের উপর বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী উমেশ রাই। স্থানীয়দের জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে দাবি। বিস্তারিত পড়ুন।

ডবল ব্যারেল চ্যানেলের উপর গড়ে  উঠেছে বেআইনি নির্মাণ-পার্কিং লট, কড়া বার্তা মন্ত্রীর  হাওড়ায় নিকাশি ব্যবস্থাকে বাঁচানোর দাবি বাসিন্দাদের
  • ১৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিকাশি ব্যবস্থা ডবল ব্যারেল চ্যানেলের উপর গত দেড় দশকে গড়ে উঠেছে একের পর এক বেআইনি বহুতল, রেস্তরাঁ, ক্লাবঘর ও ব্যাঙ্কোয়েট হল। শুধু তাই নয়, চ্যানেলের উপর তৈরি হয়েছে অসংখ্য বেআইনি পার্কিং লট। ফলে নিকাশি ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কারের কাজে দেখা দিয়েছে সমস্যা। রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার শৈলেন মান্না সরণি তথা পূর্বতন ড্রেনেজ ক্যানাল রোড সংলগ্ন এই বেআইনি নির্মাণ ও দখলদারির ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই কড়া বার্তা দিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী তথা উত্তর হাওড়ার বিধায়ক উমেশ রাই।

Advertisement

হাওড়া শহরের বিস্তীর্ণ অংশকে জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে ষাটের দশকে তৈরি করা হয়েছিল ডবল ব্যারেল চ্যানেল। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ইস্ট-ওয়েস্ট বাইপাস সংলগ্ন টিকিয়াপাড়া থেকে সিঙ্গল ব্যারেল চ্যানেল শুরু হয়ে দাসনগরের শানপুর মোড়ে এসে ডবল ব্যারেল চ্যানেলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এরপর শৈলেন মান্না সরণি ও কোনা এক্সপ্রেসওয়ের নীচে দিয়ে পদ্মপুকুর ঘুরে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সেটি ৬ নম্বর ব্রাঞ্চ চ্যানেলের সঙ্গে মিশেছে। সেখান থেকে নাজিরগঞ্জ হয়ে গঙ্গা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে গভীর নিকাশি নালা। এই চ্যানেলের মাধ্যমেই হাওড়া শহরের বিস্তীর্ণ এলাকার জমা জল সরাসরি গঙ্গায় গিয়ে পড়ে। পুরসভা সূত্রের দাবি, ১৯, ২০, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ৪২, ৪৩, ৪৪ ও ৪৯ নম্বর সহ প্রায় ১৪টি ওয়ার্ডের নিকাশি ব্যবস্থা এই চ্যানেলের উপর নির্ভরশীল। অথচ প্রতি বর্ষায় টিকিয়াপাড়া, বেলগাছিয়া, পঞ্চাননতলা, শৈলেন মান্না সরণি সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হওয়ার অভিযোগ ওঠে। বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, নিকাশি ব্যবস্থার উপর বেআইনি দখলদারি ও রক্ষণাবেক্ষণে বাধা সৃষ্টি হওয়াই এর অন্যতম কারণ।
এই পরিস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই স্পষ্ট জানিয়েছেন, হাওড়া শহরে নিকাশি ব্যবস্থার সংস্কারের পথে কোনো বেআইনি নির্মাণ বা দখলদারি বাধা হয়ে থাকলে তা সমূলে উৎখাত করা হবে। তাঁর দাবি, শৈলেন মান্না সরণির পাশে বিগত বছরগুলিতে ব্যাপক বেআইনি নির্মাণ হয়েছে। ওই নির্মাণগুলিকে চিহ্নিত করে পুরসভা ও পুলিশ যৌথভাবে আইনি পদক্ষেপ করবে। 
অভিযোগ, হ্যাংসাং ক্রসিং থেকে বেলেপোল মোড়, নতুন রাস্তার মোড় পেরিয়ে শানপুরমুখী বিস্তীর্ণ অংশে ডবল ব্যারেল চ্যানেলের উপর একের পর এক নির্মাণ গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি অ্যাপ ক্যাব, পুলকার ও ব্যক্তিগত চারচাকা গাড়ির জন্য বেআইনি পার্কিং লট তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, এই পার্কিং থেকে আদায় হওয়া বিপুল টাকা পুরসভার কোষাগারে জমা পড়েনি। বরং সেই টাকা তৎকালীন শাসকদলের প্রভাবশালী নেতাদের পকেটে ঢুকত। পুরসভার দাবি, ডবল ব্যারেল চ্যানেলের উপর বেআইনি নির্মাণ ও পার্কিং থাকার কারণে টিকিয়াপাড়া, শানপুর মোড় এবং বেলেপোল এলাকায় ভারী এক্সক্যাভেটর ও বাকেট মেশিন নামিয়ে পরিষ্কারের কাজ করতে গিয়ে রীতিমতো কালঘাম ছুটেছে। সেই সঙ্গে বিপুল টাকাও ব্যয় হচ্ছে। তাই হাওড়ার এই নিকাশি ব্যবস্থাকে বাঁচাতে দ্রুত বেআইনি দখল উচ্ছেদের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ