


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক ও কলকাতা: ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শ্যুটিংয়ে গিয়ে মৃত্যু! কীভাবে? কী ঘটেছিল অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে? স্পষ্ট নয় ২৪ ঘণ্টা পরেও। সামনে আসছে একাধিক পরস্পরবিরোধী বয়ান। রহস্য আরও বাড়িয়েছে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, রাহুলের শ্বাসনালিতে জল ও বালি ঢুকে গিয়েছিল। দমবন্ধ হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বালি জমে প্রায় দ্বিগুণ ফুলে উঠেছে ফুসফুস। দীর্ঘক্ষণ জলের নীচে না থাকলে এমনটা হওয়া সম্ভব নয়। অভিনেতার দেহ উদ্ধারকারী স্থানীয় নুলিয়াদের বক্তব্যের সঙ্গে যা হুবহু মিলে গিয়েছে—অন্তত ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা জলের নীচে ছিলেন রাহুল! অথচ রবিবার সন্ধ্যা থেকেই শ্যুটিংয়ের সঙ্গে জড়িত লোকজনের দাবির সঙ্গে এর প্রায় কোনো মিল নেই।
রবিবার সন্ধ্যায় আচমকা তালসারি থেকে অভিনেতার অকাল মৃত্যুর খবর আসে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশমতো সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় তমলুক মেডিকেল কলেজের মর্গে রাহুলের দেহের ময়নাতদন্ত করেন চিকিৎসক ইন্দ্রনীল বর্মণ। এক ঘণ্টার গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিয়োগ্রাফি করেছে পুলিশ। বাইরে তখন হাজির ছিলেন রাহুলের মামা-মামী সহ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কলাকুশলীরা। মর্গে এসে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা বলেন, ‘দীঘা বর্ডার থেকে তিন-চার কিলোমিটার ভিতরে ওড়িশার তালসারি সমুদ্রতটের ঘটনা। রাত পর্যন্ত পরিবারের তরফে কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। এধরনের শ্যুটিংয়ে সচরাচর জেলা পুলিশের কাছে তথ্য থাকে। তবে ওড়িশা পুলিশ জানিয়েছে, তারা কিছুই জানত না। তথ্য সংগ্রহ করে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। তবে রাহুল যে জলে নেমেছিলেন সেই ফুটেজ আমরা উদ্ধার করেছি। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ ময়নাতদন্ত শেষে এদিন দুপুরে অভিনেতার দেহ নিয়ে আসা হয় কলকাতার বিজয়গড়ে, রাহুলের বাড়িতে। সেখানে শেষশ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছিলেন অভিনয়, রাজনীতির জগতের বিশিষ্টরা। ভিড় জমান সাধারণ মানুষও। বিকেলে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে অভিনেতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে এসে অভিনেতার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা ও ছেলে সহজকে সমবেদনা জানান সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, বিশিষ্ট পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়রা।
শেষকৃত্য সম্পন্ন হলেও রাহুলের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের অন্ত নেই। ওড়িশা পুলিশের অনুমতি ছাড়া কীভাবে হল শ্যুটিং? সাঁতার জানার পরেও অভিনেতা তলিয়ে গেলেন কীভাবে? ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের নির্মাতাদের তরফে রবিবার রাতে জানানো হয়েছিল, জলে পড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নাকি উদ্ধার করা হয়েছিল রাহুলকে! তাহলে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট কী ভুল বলছে? এমনকি প্রথমে তো গল্পের চিত্রনাট্যকার দাবি করেছিলেন, জলের কোনো দৃশ্যই ছিল না চিত্রনাট্যে। পরে অবশ্য জানা যায়, হাঁটু জলে ড্রোন শট চলছিল। আচমকা ঢেউতে পড়ে যান সহ অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র। তাঁকে ধরতে গিয়েই নাকি রাহুল সমুদ্রের গভীরে এগিয়ে যান। এবং টাল সামলাতে না পেরে তিনিও পড়ে যান। ইন্ডাস্ট্রি অন্দরে প্রশ্ন উঠছে, সমুদ্রের জলে শ্যুটিংয়ের জন্য লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বোট, জরুরিকালীন চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ডাক্তারের ব্যবস্থা এক্ষেত্রে ছিল না কেন? রাহুলের গাড়ির ড্রাইভার বাবলু দাস সহ আরও অনেক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, উদ্ধারের পরও রাহুলের শরীরে প্রাণ ছিল। ঘটনাস্থল থেকে দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয়। অর্থাৎ সৈকতে সঠিক চিকিৎসা হলে দুর্ঘটনা এড়ানো যেতে পারত। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করছেন অনেকে। আর্টিস্ট ফোরামের তরফে শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় অবশ্য জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।