সংবাদদাতা, বজবজ: বজবজের বুইতায় ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের বটলিং প্লান্টে ধর্মঘটী গাড়িচালকরা সিলিন্ডারের মুখ খুলে গ্যাস ছড়িয়ে মরণকূপ তৈরি করেছিল। আগুনের একটি স্ফূলিঙ্গই বড়সড় বিপদ ডেকে আনতে পারত। নিমেষে অগ্নিদগ্ধ হতে পারতেন আশপাশের মানুষ এবং উপস্থিত পুলিসকর্মী ও লোকজন। আন্দোলনের নামে এই নাশকতামূলক কাজের পরিকল্পনা কার? চালকদের কেউ, নাকি বাইরের কারও পরামর্শে গোটা এলাকাকে গ্যাসের চেম্বার বানানো হয়েছিল, এইসব প্রশ্নই এখন ভাবাচ্ছে ডায়মন্ডহারবার পুলিস জেলার শীর্ষ কর্তাদের। তদন্তকারীরা মূল মস্তিষ্ককে চিহ্নিত করতে চাইছে।
ডায়মন্ডহারবার পুলিস জেলার এক শীর্ষ কর্তা বলেন, আইওসি বটলিং প্লান্টে সিলিন্ডারের নব খুলে গ্যাস ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা এর আগেও হয়েছে। সেবারও ট্যাঙ্কারের চালকরা ওই জঘন্য কাজ করেছিল। পরপর দু’বার একই ঘটনা হওয়ায় চিন্তা বেড়েছে পুলিসের। ২০১৪-’১৫ সালে চাঁদা, জুলুমবাজি ও মারধরের প্রতিবাদে চালকরা পরপর ট্যাঙ্কার দাঁড় করিয়ে রাস্তা আটকে দিয়েছিলেন। প্লান্টের ধারেকাছে যাতে কেউ ঘেঁষতে না পারে, সেকারণে রান্নার গ্যাসের একাধিক সিলিন্ডারের নব খুলে গেটের বাইরে রাখা হয়েছিল। গোটা এলাকা সাদা ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছিল। পুলিস আগে থেকে ওই মরণকূপের বিষয়টি আঁচ করতে পারেনি। সেবার পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিসকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছিল। এবারও সেই একইভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের মুখ খুলে দেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিসের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, চালকদের প্রতি প্রথমে সহানুভূতিশীল ছিল প্লান্টের উপরমহল। তাঁদের নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা চলছিল। কিন্তু আচমকা প্লান্টের ভিতরে যেখানে সিলিন্ডার লোডিং ও আনলোডিং করা হয়, সেখানে আন্দোলনকারীরা সিলিন্ডারের নব খুলে গ্যাস ছড়াতে শুরু করে। দশ বছর আগের ওই ঘটনার সঙ্গে এবারের ঘটনার মিল থাকায় স্বভাবতই নেপথ্যের সূত্র এক কি না, তা জানতে উদ্যোগী তদন্তকারীরা। - ফাইল চিত্র