নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রতি কুইন্টাল ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (এমএসপি) উপর মিলবে অতিরিক্ত ২০০ টাকা। রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে, নভেম্বর থেকে নতুন খরিফ মরশুমে চাষির থেকে ধানক্রয়ে এই নয়া সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রতি কুইন্টাল ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (এমএসপি) উপর মিলবে অতিরিক্ত ২০০ টাকা। রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে, নভেম্বর থেকে নতুন খরিফ মরশুমে চাষির থেকে ধানক্রয়ে এই নয়া সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
এর ফলে সরকারের কাছে ধান বেচতে চাষিদের আগ্রহ বাড়বে। আশা করছে রাজ্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহল। জুন থেকে চলতি মরশুমের দ্বিতীয় পর্বে আরো ২ লক্ষ টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। কিন্তু মাসকয়েক পরে দামবৃদ্ধির আশায় মজুত ধান চাষিরা এখন ধরে রাখছেন। ফলে সরকারি উদ্যোগে ধান ক্রয়ের পরিমাণ নতুন করে বাড়েনি। বেঙ্গল রাইস মিল ওনারস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি দল শনিবার নবান্নে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে এক বৈঠক করে। সেখানে আগামী মরশুমে রাজ্যে সরকারি উদ্যোগে আরো বেশি পরিমাণ ধান কেনার জন্য ‘ওড়িশা মডেল’ অনুসরণ করার অনুরোধ জানিয়েছে তারা। পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় ওড়িশায় ধানের উৎপাদন অনেক কম। কিন্তু সেখানে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ায় গত মরশুমে ৯৮ লক্ষ টন ধান সরকার কিনেছে। আর পশ্চিমবঙ্গে এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ কেনা হয়েছে ৫৫-৫৬ লক্ষ টন মাত্র। পশ্চিমবঙ্গে বছরে আড়াই কোটি টনের বেশি ধান উৎপাদন হলেও সরকারি উদ্যোগে সেই তুলনায় খুব কমই কেনা হয়। রাজ্যে রেশনের চাহিদার তুলনায় বেশি চাল উৎপাদন হলে তা এফসিআইয়ের কাছে বিক্রির সুযোগ থাকে। কিন্তু এতদিন সেই সুযোগ চাষিদের দেওয়া হয়নি।
কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৬-২৭ খরিফ মরশুমে সাধারণ ধানের এমএসপি কুইন্টালে ৭২ টাকা বাড়িয়ে ২,৪৪১ টাকা করেছে। রাজ্য সরকার তার উপর দেবে আরো ২০০ টাকা। রাজ্য ঘোষণা করেছে, পর্যায়ক্রমে দাম আরো বাড়িয়ে ৩,১০০ টাকায় নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য। রাইস মিল সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মনোজ ফোগলা জানান, ওড়িশায় এখনই ৩,১০০ টাকা দরে সরকার ধান কেনে। অত্যাধুনিক যন্ত্রে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধানের গুণগত মান যাচাই করার ফলে এটা নিয়ে বাংলার মতো সমস্যা ওই পড়শি রাজ্যে হয় না। এসব ব্যবস্থাসহ মিলিং চার্জ বৃদ্ধির জন্য সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে।