সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: রাজ্যে পালাবদলের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদ জেলা ছাড়া বাকি সব জেলাতেই ১ জুন থেকে ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্প ভি বি জি রামজির কাজ শুরু হল। সোমবার আমতা ২ নম্বর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একটি পুকুর সংস্কারের মধ্যে দিয়ে প্রকল্পের সূচনা হয়। এদিন এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমতার বিধায়ক অমিত সামন্ত। বিধায়কের দাবি, রাজ্যের মধ্যে হাওড়ায় এই প্রকল্পের কাজ প্রথম শুরু হল। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পুকুরটি সংস্কারের পাশাপাশি সৌন্দার্যায়ন করা হবে। আনুমানিক ব্যয় হবে ১৮ লক্ষ ৪১ হাজার ৫১৮ টাকা। মোট কর্মদিবস ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৮১৯ দিন।
এদিন এই কাজের সূচনা করে বিধায়ক অমিত সামন্ত বলেন, তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্নীতিগ্রস্তরা জব কার্ড হোল্ডারদের থেকে টাকা নিত। প্রতিটি ব্লকে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার জব কার্ড হোল্ডারদের নাম নথিভুক্ত ছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, কাজ করছেন মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ হাজার। বাকি জব কার্ড হোল্ডারদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন তৃণমূলের নেতারা। সেকারণে এই প্রকল্পের কাজ এতদিন বন্ধ ছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্প শুরু হচ্ছে। তিনি বলেন, এবার আর কোনও দুর্নীতি হবে না। সাধারণ মানুষ তাঁদের কাজ এবং প্রাপ্য বুঝে নেবেন।
বিধায়কের কথায়, এখন ১২৫ দিনের কাজে অনেক বেশি স্বচ্ছতা আনা হয়েছে। ব্যাংক থেকে অথেনটিকেশনের জন্য আঙুলের ছাপ নেওয়া হচ্ছে। জব কার্ড হোল্ডাররা যাতে কেন্দ্রীয় সরকারের গাইডলাইন অনুযায়ী কাজ করেন এবং তাঁদের প্রাপ্য পান, সেদিকে আমরা লক্ষ্য রাখব। নিজের বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এই কাজ শুরু হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিধায়ক অমিত সামন্ত। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন পর প্রকল্প চালু হওয়ায় হাসি ফুটেছে জব কার্ড হোল্ডারদের মুখে। এদিন কাজ করতে আসা নবীন হাজরা, স্বরূপ পাল, নিশীথ হাজরা বলেন, দীর্ঘ চার বছর কী ধরনের সমস্যার মধ্যে দিন কাটিয়েছি, তা বলার নয়। কখনও আধপেটা খেয়ে দিন কাটিয়েছি। ১২৫ দিনের কাজ শুরু হওয়ায় আমরা প্রাণে বাঁচলাম। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও ধন্যবাদ জানান তাঁরা।