Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

আমেরিকায় আবার ট্রাম্প, ‘যুদ্ধ বন্ধ করব’, ইতিহাস গড়েই ঘোষণা নয়া প্রেসিডেন্টের

আমেরিকায় আবার ট্রাম্প, ‘যুদ্ধ বন্ধ করব’, ইতিহাস গড়েই ঘোষণা নয়া প্রেসিডেন্টের
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
ওয়াশিংটন: হ্যাঁ, এভাবেও ফিরে আসা যায়! ক্যাপিটল হিংসা, গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া, প্রাণঘাতী হামলা পেরিয়ে আমেরিকার মসনদে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ডোনাল্ড ট্রাম্পের। বুধবার ভোটের ফলের গতিপ্রকৃতি বলছে, অধিকাংশ জনমত সমীক্ষার পূর্বাভাস ডাহা ফেল। নির্বাচনে কার্যত ধরাশায়ী ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী কমলা হ্যারিস। ‘ট্রাম্প-ওয়েভ’ বইছে গোটা আমেরিকাতেই। দীর্ঘদিন পর একযোগে সেনেট, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও হোয়াইট হাউসের ‘ত্রিফলা’ জয়ে নিরঙ্কুশ ক্ষমতাদখল করছে রিপাবলিকান শিবির। রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্পই আমেরিকার ৪৭তম প্রেসিডেন্ট। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অবশ্য এখনই হচ্ছে না। তবে এদিন জয় নিশ্চিত হতেই আমেরিকায় ‘স্বর্ণযুগ’ আনার প্রতিশ্রুতি শোনা গিয়েছে ট্রাম্পের গলায়। আর প্রথম ভাষণেই ঘোষণা করেছেন, ‘যুদ্ধ বন্ধ করব। পৃথিবীকে শান্তির পথে ফেরাব।’ এই ঘোষণায় নড়েচড়ে বসেছে তামাম দুনিয়া। রাশিয়া বনাম ইউক্রেন, ইজরায়েল বনাম হামাস-ইরান যুদ্ধ কি তবে শেষ হবে শীঘ্রই? জল্পনা চরমে।
Advertisement
প্রেসিডেন্ট পদে ট্রাম্পের এই প্রত্যাবর্তন সত্যিই ঐতিহাসিক। চার বছর আগের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে হেরে যান তিনি। যদিও পরাজয় মানতে চাননি। পরে আদালতে ধাক্কা খেলেও তাঁর ‘একরোখা’ মানসিকতার কারণে ঘটে যায় ক্যাপিটল হিংসার মতো ভয়ঙ্কর ঘটনা। পর্নতারকা কাণ্ড সহ একাধিক গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন ট্রাম্প। তবে এখনও পর্যন্ত সাজা ঘোষণা হয়নি। পরবর্তী শুনানি হবে ২৬ নভেম্বর। যদিও দু’বার আততায়ীর হামলা হয়েছে তাঁর উপর। প্রচারপর্বে একবার কান ছুঁয়ে বেরিয়ে গিয়েছে গুলি। এত কিছুর পরও কোনও নেতার ফের ক্ষমতার শীর্ষপদে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হওয়াটা আশ্চর্যের বই-কি! এই নিরিখে ১৩২ বছরের পুরনো নজির স্পর্শ করেছেন ট্রাম্প। মাঝে একবার হেরেও দু’বার আমেরিকার মসনদে বসার রেকর্ড এতদিন ছিল একমাত্র গ্রোভার ক্লেভল্যান্ডের দখলে। তিনি ছিলেন আমেরিকার ২২তম (১৮৮৫-’৮৯) ও ২৪তম (১৮৯৩-’৯৭) প্রেসিডেন্ট। সেই তালিকায় জুড়ে গেল ট্রাম্পের নাম। এদিন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেট’ উইসকনসিনে জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রয়োজনীয় ২৭০ ইলেক্টোরাল ভোটের গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। আর তারপরেই ফ্লোরিডার পাম বিচ কনভেনশন সেন্টারে সমর্থকদের নিয়ে মেতে ওঠেন বিজয় সমাবেশে।
সেই সমাবেশ থেকেই মার্কিন জনতাকে খোয়াব দেখিয়েছেন ট্রাম্প—আমেরিকা আবার ‘জগতসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে’। ‘বন্ধু’কে জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাতে দেরি করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আবার ট্রাম্পের কণ্ঠেও শোনা গিয়েছে মোদির ‘ঈশ্বরের বরপুত্র’ সুলভ মন্তব্যের প্রতিধ্বনি। প্রচারপর্বে প্রাণঘাতী হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এদিন তিনি বলেন, ‘আমেরিকাকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেবেন বলেই ঈশ্বর আমাকে সেদিন প্রাণে বাঁচিয়েছেন।’
২০১৬ ও ২০২৪—দু’বারই মহিলা প্রেসিডেন্ট পেতে পারত আমেরিকা। কিন্তু তা হতে দেননি ট্রাম্প। সেবার হিলারি ক্লিন্টন আর এবার কমলা হ্যারিস। গোটা প্রচারপর্বে চিরপরিচিত ‘একরোখা’ মেজাজই প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে দিয়েছে ট্রাম্পকে। এবার তো কমলা হ্যারিসকে ব্যক্তিগত, বর্ণ ও লিঙ্গবৈষম্য মূলক আক্রমণ করতেও ছাড়েননি। তা সত্ত্বেও মার্কিন জনতা তাঁকে ঢেলে ভোট দিয়েছে। বলা ভালো, গত চার বছরে ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনের শাসনে অনুপ্রবেশ, মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের মতো ইস্যুতে জনমনে তৈরি হওয়া ক্ষোভকে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে উস্কে দিয়েই বাজিমাত করলেন ট্রাম্প। সমর্থকদের সামনে এই জয়কে সর্বকালের সেরা রাজনৈতিক আন্দোলন আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প।
সম্পর্কিত সংবাদ