Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

অমৃতকথা

অমৃতকথা
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীবিগ্রহকে সম্মান সহকারে দণ্ডবৎ প্রণাম

Advertisement

নারদীয়-পুরাণে শ্রীবিগ্রহকে সম্মান প্রদর্শন ও দণ্ডবৎ প্রণতি সম্বন্ধে বলা হয়েছে, “যিনি প্রভূত পুণ্যকর্ম আচরণ করেছেন এবং যে মানুষ কেবল শ্রদ্ধা সহকারে পরমেশ্বর ভগবানকে প্রণতি জানিয়েছেন, তাঁরা সম-পর্যায়ভুক্ত নন।” যে মানুষ বহু যাগযজ্ঞ অনুষ্ঠান করেছেন, তিনি পুণ্যফল লাভ করবেন। কিন্তু সেই সমস্ত পুণ্যের ফল যখন শেষ হয়ে যায়, তখন তাকে আবার এই পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করতে হয়, কিন্তু যে মানুষ কেবল একবার শ্রদ্ধা সহকারে ভগবানের শ্রীবিগ্রহকে প্রণতি নিবেদন করেছেন, তাঁকে আর কখনও এই জগতে ফিরে আসতে হবে না, কেন না তিনি সরাসরিভাবে কৃষ্ণলোকে উন্নীত হবেন।
ভগবানকে স্বাগত জানাতে দণ্ডায়মান হওয়া
ব্রহ্মাণ্ড-পুরাণে বলা হয়েছে, “যিনি ভগবানের রথযাত্রার সময় রথে করে তাঁকে আসতে দেখেন এবং তাঁকে স্বাগত জানাবার জন্য দণ্ডায়মান হন, তার শরীর থেকে সমস্ত পাপ বিনষ্ট হয়ে যায়।”
শ্রীমূর্তির অনুগমন
এই ধরনের একটি উক্তি ভবিষ্য পুরাণে রয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, “নীচে-কুলোদ্ভূত কোন মানুষও যদি রথের সম্মুখে থেকে অথবা পশ্চাদ্‌ভাগ থেকে রথের অনুগমন করেন, তা হলে অবশ্যই তিনি শ্রীবিষ্ণুর মতো ঐশ্বর্য প্রাপ্ত হন।”
বিষ্ণুমন্দির অথবা তীর্থে গমন
পুরাণে বলা হয়েছে, “বৃন্দাবন, মথুরা, দ্বারকা আদি পুণ্যভূমিতে যাঁরা গমন করেছেন, তাঁরা ধন্য। তাঁরা অনায়াসে সংসাররূপ মরুভূমি পার হয়ে যান।”
হরিভক্তি-সুধোদয়ে শ্রীকৃষ্ণের মন্দিরে যাওয়ার মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে। পূর্বে বৃন্দাবন, মথুরা ও দ্বারকায় যাওয়ার যে মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে, তাতে স্পষ্টভাবেই বোঝা যায় যে, সেই সমস্ত পুণ্যভূমিতে ভক্তরা ভগবানের মন্দিরে ভগবানকে দর্শন করার সুযোগ পান। হরিভক্তি-সুধোদয়ে বলা হয়েছে, “যে সমস্ত মানুষ শুদ্ধ কৃষ্ণভক্তির দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন এবং যাঁরা ভগবানের মন্দিরে ভগবানের শ্রীবিগ্রহ দর্শন করতে যান, তাঁদের কখনও মাতৃগর্ভরূপী কারাগারে প্রবেশ করতে হয় না।” মাতৃগর্ভে অবস্থান করা অত্যন্ত বেদনাদায়ক, কিন্তু বদ্ধ জীব জন্মের পর সেই বেদনাদায়ক অবস্থার কথা ভুলে যায়। শাস্ত্রে জড় জগতের দুঃখময় অবস্থা থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য প্রত্যেককে ভক্তি সহকারে ভগবানের মন্দিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার ফলে অনায়াসে এই জড় জগতের দুঃখময় পুনর্জন্ম থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
বিষ্ণুমন্দির পরিক্রমা
হরিভক্তি-সুধোদয়ে বলা হয়েছে, “যে মানুষ বিষ্ণুমূর্তির পরিক্রমা করেন, তিনি এই জড় জগতে জন্ম-মৃত্যুর চক্রকে প্রতিহত করে জড় বন্ধন থেকে মুক্ত হন।” ভবরোগের ফলে বদ্ধ জীব নিরন্তর জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আবর্তিত হয়, কিন্তু বিষ্ণুমন্দির প্রদক্ষিণ করার ফলে সেই আবর্তন থেকে মুক্ত হওয়া যায়। 
শ্রীল রূপ গোস্বামী বিরচিত ‘ভক্তিরসামৃতসিন্ধু’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ