Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কেন্দ্রের বঞ্চনা নিয়ে শিল্পমহলকে সরব হওয়ার আর্জি অমিত মিত্রের

বাংলার প্রতি মোদি সরকারের ধারাবাহিক আর্থিক বঞ্চনা নিয়ে এবার শিল্পমহলকে সরব হওয়ার আবেদন জানালেন অমিত মিত্র।

কেন্দ্রের বঞ্চনা নিয়ে শিল্পমহলকে সরব হওয়ার আর্জি অমিত মিত্রের
  • ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলার প্রতি মোদি সরকারের ধারাবাহিক আর্থিক বঞ্চনা নিয়ে এবার শিল্পমহলকে সরব হওয়ার আবেদন জানালেন অমিত মিত্র। রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অমিতবাবু শুক্রবার বণিকসভা মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এক সভায় এই আবেদন জানিয়েছেন। রাজ্য সরকার এবং শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ করে আসছে। বৃহস্পতিবার কলকাতায় এসে ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সেই অভিযোগ নস্যাৎ করার চেষ্টা করেন। রীতিমতো তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন, মোদি সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা কতটা উদারহস্ত। ২০১৪ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত রেল, মেট্রো, সড়ক যোগাযোগ সহ বিভিন্ন প্রকল্প খাতে কেন্দ্র কত টাকা দিয়েছে, তার ফর্দ তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। নির্মলাদেবীর নাম না করেই এদিন তথ্য তুলে ধরে অমিতবাবু তাঁর সেই দাবি খণ্ডন করেন। তিনি জানান, গত আট বছরে বাংলা থেকে কেন্দ্র ডাইরেক্ট ট্যাক্স অর্থাৎ আয়কর খাতেই ৪ লক্ষ কোটি টাকা নিয়ে গিয়েছে। এছাড়া, ১.৩৭ লক্ষ কোটির কাস্টমস ডিউটি এবং সেন্ট্রাল জিএসটি বাবদ ১ লক্ষ ১৭ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গিয়েছে তারা। সেই জায়গায় তারা যে টাকা বাংলাকে দিয়েছে, তা বাড়তি কিছু নয়। দেশের একটি অঙ্গরাজ্য হিসেবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জায়গা থেকে যে টাকা দিতে হতো, সেটাই দিয়েছে। সেই সঙ্গে বহু ক্ষেত্রে রাজ্যকে ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করে চলেছে। তাঁর কথায়, ‘৪৬ বার টিম পাঠিয়েও ১০০ দিনের কাজের টাকা রাজ্যকে দেয়নি কেন্দ্র। আবাস যোজনা, গ্রামীণ আবাস যোজনা, সাইক্লোন সেন্টার বাবদ ন্যায্য প্রাপ্য দিচ্ছে না।’ এরপরই শিল্পমহলের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘কেন্দ্র যে টাকা এখান থেকে নিয়ে যাচ্ছে, তাতে তো  আপনাদের করের অংশও রয়েছে। তাই রাজ্যের জ্যর প্রতি এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে আপনারাও সরব হন।’ 

Advertisement

বর্তমানে ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন, তাতে একটা টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিন। সেই সূত্রে বণিকসভার প্রতি তাঁর আহ্বান, উদ্ভুত পরিস্থিতিতে উদ্যোগপতি, ব্যবসায়ীদের সহায়তা ও পরামর্শ দিতে চেম্বার যেন একটি শাখা বা সেল খোলে। বৃহস্পতিবার কলকাতায় এসে দেশের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরণ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, নভেম্বরেই ট্রাম্পের ২৫ শতাংশ শুল্ক জরিমানা উঠে যাবে। তারপর ধাপে ধাপে শুল্ক ১৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে অমিতবাবু বলেন, ‘ইতিমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ভারত থেকে পাততাড়ি গোটাতে শুরু করেছেন। বেঙ্গালুরুতে আমার এক বন্ধুর সংস্থা দেশ ছেড়েছে।’ এদিন বেশ কয়েকজন শিল্পপতি উপস্থিত ছিলেন আলোচনায়। তাঁরা অমিতবাবুর উপস্থিতিতেই রাজ্যে সব মিলিয়ে ৪৯ হাজার ২৬১ কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেন। -ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ