Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রতিমার পরচুলা বানান আমিনা-আসিফা, বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কায় শিল্পীরা

প্রতিমার পরচুলা বানান আমিনা-আসিফা, বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কায় শিল্পীরা
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পুজোর দেরি নেই। এখন নাওয়া খাওয়া ভুলে দিনরাত পরিশ্রম করছেন শেখপাড়া, পার্বতীপুরের আমিনা, আসিফা, রুখিনা বিবিরা। তাঁদের হাতে তৈরি হয় দুর্গার মাথার পরচুলা। কয়েকটি গ্রামের ৫০টিরও বেশি পরিবার বংশানুক্রমে তৈরি করেন পরচুলা। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলি ছাড়াও ভিন রাজ্যে এই কারখানাগুলিতে তৈরি পরচুলা যায়। চলতি বছর লাগাতার বৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন শিল্পীরা।

Advertisement

জগৎবল্লভপুরের বড়গাছিয়ার পার্বতীপুর ও শেখপাড়ার বাসিন্দাদের মূল জীবিকাই প্রতিমার পরচুলা তৈরি। সারাবছরই এই কাজে যুক্ত তাঁরা। পুজোর মাস দেড়েক আগে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। দুর্গাপুজো, কালীপুজো ছাড়াও সরস্বতী পুজো পর্যন্ত টানা অর্ডার থাকে। জানা গিয়েছে, হুগলির মশাট, শিয়াখালার মতো জায়গা থেকে কাঁচা পাট আসে। তা ধোয়া হয়। তার উপর কালো রং করেন কারিগররা। তারপর পাটকাঠিতে জড়িয়ে প্যাকেটে পুড়ে চলে যায় প্রতিমাশিল্পীদের কাছে। গ্রামের যুবকদের পাশাপাশি মহিলারাও পরচুলা তৈরি করেন। শেখপাড়ার বাসিন্দা আসিফা বিবি বলেন, ‘পুজোর সময় রোজগার সবথেকে বেশি হয়। এ সময় বেশি টাকা লগ্নি করে পাট কিনি। এ বছর সময়মতো অর্ডারের মাল দিতে পারব কি না জানি না।’ পার্বতীপুর রোডে গেলে এখন চোখে পড়বে, রাস্তার দু’পাশে বাঁশের খুঁটিতে বেঁধে শুকনোর জন্য মেলা আছে কালো রং করা পাট। কারিগররা বলেন, অন্যান্যবার দু’দিনে যে কাজ মিটে যায় এবার সেটা করতে ছ’দিন সময় লাগছে। চুল শুকতে দেরি হচ্ছে। লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।’
জানা গিয়েছে, একসময় জগৎবল্লভপুরের বড়গাছিয়া থেকে কলকাতার কুমোরটুলিতে প্রচুর পরিমাণ পরচুলা পাঠানো হতো। কিন্তু এখন হাতেগোনা কিছু মৃৎশিল্পীর কারখানাতে তা যায়। হাওড়া, হুগলির পাশাপাশি দুই বর্ধমান, দুই মেদিনীপুর, বীরভূম, বাঁকুড়া ও বিহারের পাটনাতেও পরচুলা সরবরাহ হয়। ৪৫ বছর ধরে পরচুলা তৈরি করছেন শেখ নাসিম। তিনি বলেন, ‘দুর্গাপুজোর মত কালীপুজোতেও চাহিদা থাকে। কিন্তু বর্তমানে কাঁচামালের দাম খুব বেড়ে গিয়েছে। মহাজনরা আগের হিসেবে টাকা দেন না। ফলে ছোট কারবারিরা সমস্যায় পড়ছেন।’ করোনার সময় বড়গাছিয়ার মুসলিমপাড়ায় পরচুলা তৈরির কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীকালে চাহিদা বাড়ায় ফের কাজে ফেরেন মহিলারা। জগৎবল্লভপুরের এই শিল্পীদের এক ছাতার তলায় এনে ক্লাস্টার তৈরি করা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে জেলা প্রশাসন। পূর্বপুরুষের এই পেশাকে সরকার স্বীকৃতি দিক চাইছেন কারিগররা।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ