নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লক্ষ্মীবারেও সরগরম রইল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসের ভিতরে চাপা ও বাইরে মৃদু উত্তেজনা ছড়াল এদিন। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি ক্যাম্পাসের ভিতর ‘বন্দে মাতরম যাত্রা’র আয়োজন করেছিল। তারপর একটি সংগঠনের ডাকে ত্রিগুণা সেন প্রেক্ষাগৃহে আলোচনা সভায় যোগ দেন বিজেপির নেতারা। সেই সভা থেকে বিজেপি সাংসদ রাহুল সিনহা একাংশের পড়ুয়া, অধ্যাপক, কর্মচারীদের সাবধান করেছেন। সেই সময় বিজয়গড় কলেজ থেকে যাদবপুরের অভিমুখে মিছিল করে আসে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই। তাদের মিছিল এইট-বি বাসস্ট্যান্ডের সামনে ব্যারিকেড ভাঙলে মৃদু উত্তেজনা ছড়ায়।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভিতরে দেওয়াল লিখনের লড়াই এদিনও অব্যাহত ছিল। মুছে দেওয়া দেওয়ালের পাশে ফ্যাসিবাদ বিরোধী স্লোগান লেখা হয়েছে। অটলবিহারী বাজপেয়ির ছবি দিয়ে, প্যালেস্টাইনের পক্ষে বলা তাঁর বক্তব্যের কয়েক লাইন দিয়ে পোস্টার টাঙানো হয়েছে। কে ঝোলাল এই পোস্টার? সেখানে লেখা রয়েছে, রাষ্ট্রবাদী ছাত্ররা। যদিও নিজেদের রাষ্ট্রবাদী বলার দায় এবিভিপি নেয়নি। এদিন ক্যাম্পাসে ঋষি অরবিন্দ, প্রয়াত উপাচার্য গোপালচন্দ্র সেন প্রমুখ ভারতীয় মনীষীদের ছবি টাঙায় এবিভিপি। পাশাপাশি বাংলাদেশে গণহত্যার বিচার চেয়ে পোস্টার ও ভারতের সংবিধানে নন্দলাল বসুর আঁকা রাম ছবিও টাঙানো হয়।
দেওয়াল লিখন প্রসঙ্গে দেওয়াল প্রসঙ্গে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘হৃদয়ে লেখো নাম, সে নাম রয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বলব, বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি, আবহাওয়া বুঝে বাঙালির হৃদয়ে নাম লিখুন।’ ছবি টাঙানোর আগে তাঁরা জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল করেন। যদিও মিছিলের দৈর্ঘ্য ও অংশগ্রহণকারীদের বয়স নিয়ে কটাক্ষ করেছে এসএফআই। আর ত্রিগুণা সেন প্রেক্ষাগৃহ থেকে তীব্র ভাষায় বামেদের আক্রমণ করেছেন বিজেপি সাংসদ রাহুল সিনহা। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ‘জাতীয়তাবাদ ও আধুনিক ভারত’। তবে বক্তাদের বক্তব্যে বারবার এসেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ।
রাহুলবাবু বলেছেন, ‘ওরা বলে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি। অর্থাত্ হেড অফিস অন্য কোথাও। ওরা ভারতীয় হতে পারল না।’ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নকশালবাদ, লেনিনবাদ, ভারতমাতা বিরোধীদের ‘হোয়াইটওয়াশ’ করার কথাও তিনি বলেন। এরপরেই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সতর্ক হোন। এখন আর তৃণমূল নেই। কিছু শিক্ষক-অধ্যাপকদের চিহ্নিত করেছি। কিছু কর্মীও রয়েছেন।’
এই সভায় শমীক ভট্টাচার্য, স্বপন দাশগুপ্ত প্রমুখ উপস্থিত থাকবেন বলে পোস্টারে থাকলেও তাঁরা আসেননি। রাহুল সিনহা ছাড়া বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় এবং সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক দেবাশিস ধর এসেছিলেন। যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় এই সভায় এসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে ‘ঋষি অরবিন্দ বিশ্ববিদ্যালয়’ রাখার প্রস্তাব দেন। নাম বদল প্রসঙ্গে তীব্র কটাক্ষ করেছেন এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘আমি তাঁর বক্তব্যকে পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি। ভেবে দেখতে বলব, বিজেপি-আরএসএস যখন কোনো রাস্তা বা প্রতিষ্ঠানের নাম বদলায়, তারা সাধারণত নিজেদের ভাবনাকে সামনে আনার জন্য করেন। অরবিন্দ ঘোষ তো স্বদেশি আন্দোলনের নেতা। বিজেপি-আরএসএস ব্রিটিশের পক্ষে ছিল। যাদবপুরের নাম পালটে বরং নাথুরাম করুক, নন্দলাল বসুর প্রতীক পালটে সাভারকারের মুচলেকা চিঠি করে দিক। শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে উপাচার্য করে দিন।’
যাদবপুরে লেনিন মূর্তির সামনে একটি ব্যারিকেড ভাঙার পর এইট-বি’র সামনে আর একটি ভাঙতে এলে এদিন এসএফআইয়ের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে অল বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন। -নিজস্ব চিত্র