ওয়াশিংটন: কয়েকদিনের বিরতি। আমেরিকা ও চীনের মধ্যে শুল্কযুদ্ধের ঝাঁঝ ফের বাড়ল। হঠাত্ই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা, ১ নভেম্বর থেকে চীনের পণ্যের উপর বাড়তি ১০০ শতাংশ শুল্ক বসবে। ফলে চীনা পণ্যে মার্কিন শুল্কের পরিমাণ ১৪০ শতাংশে পৌঁছে যেতে পারে। কিন্তু ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কারণ কী? সূত্রের খবর, বিরল খনিজ পদার্থ (রেয়ার আর্থ মেটেরিয়াল) রপ্তানির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতেই রাখতে চাইছে বেজিং। এই সব বিরল খনিজ পদার্থ মূলত সেমিকন্ডাক্টর, ফাইটার জেট ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, চীনের ভূমিকা ‘অত্যন্ত আক্রমণাত্মক’। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও তা অত্যন্ত অবমাননাকর। চীনের এই অন্যায় কার্যকলাপ রুখতেই তিনি চড়া হারে শুল্ক চাপানোর পথে হেঁটেছেন। বেজিং পাল্টা পদক্ষেপ করলে নির্ধারিত দিনের আগেই নয়া হারে শুল্ক কার্যকর হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরই কাঁপুনি ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে। একদিনেই উবে গেল ১৯০০ কোটি ডলার। ধস নামল বিটকয়েন, ইথেরিয়ামের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সির দরে ধস নামে। বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দর ৮.৪০ শতাংশ কমে প্রতি ইউনিটের ১ লক্ষ ১১ হাজার ৮৪১ মার্কিন ডলারে পৌঁছয়। ইথেরিয়ামের দর পড়ে ১৬.৬২ শতাংশ। চলতি বছরেই দক্ষিণ কোরিয়ায় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন (অ্যাপেক)-এর বৈঠক হবে। সেখানে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা। হোয়াইট হাউসের দাবি, বৈঠকের আগে বেজিং ইচ্ছা করেই বিরল খনিজের রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা নিতে চাইছে। সূত্রের খবর, চীন যদি বিরল খনিজ পদার্থের রপ্তানি নিয়ে কড়াকড়ি করে তাহলে তার সবচেয়ে প্রভাব পড়বে আমেরিকার শিল্প ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে। এই ধরনের খনিজের জন্য চীনের সাপ্লাই চেনের উপরে নির্ভরশীল ওয়াশিংটন। চড়া হারে শুল্ক চাপিয়ে চীনকে আলোচনার টেবিলে আনাই ট্রাম্পের লক্ষ্য বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, চীনের উপর ৩ মাসের জন্য তিনি অতিরিক্ত শুল্ক চাপাবেন না। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন তিনি। হোয়াইট হাউসের আধিকারিকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প-শি বৈঠকও এখন অনিশ্চিত হয়ে গেল।



