Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অমরদীপের বাহিনী যেন সিনেমার গুন্ডা ‘দুষ্কৃতীদের ত্রাস’ শেষ হয়েছে, দাবি বিজেপির

কারোর পুরো হাতে রংবেরংয়ের ট্যাটু। কারোর জুলফি কানের নীচ পর্যন্ত ঝোলা।

অমরদীপের বাহিনী যেন সিনেমার গুন্ডা ‘দুষ্কৃতীদের ত্রাস’ শেষ হয়েছে, দাবি বিজেপির
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: কারোর পুরো হাতে রংবেরংয়ের ট্যাটু। কারোর জুলফি কানের নীচ পর্যন্ত ঝোলা। কারোর কামিজের বোতাম বুক পর্যন্ত খোলা থাকায় জ্বলজ্বল করছে সোনার মোটা চেইন। কারোর মুখের দাড়ি, কানের দুল আর শ্যেনদৃষ্টি সাধারণ মানুষের বুকের ভেতর ধড়ফড়ানি তৈরি করতে যথেষ্ট। খানিকটা দক্ষিণ ভারতের বড়োসড়ো অ্যাকশন ছবির ভিলেনের চ্যালাচামুন্ডাদের ঢঙে, হাবভাবে সকলকে চমকাতে কাফি অমরদীপ বাহিনী। তাদের হাতের দামী মোবাইল ফোনও যে কারোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বাধ্য। এমনকি, অমরদীপকে আদালতের লকআপ থেকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় গোপন রাখা নিয়ে পুলিশের তৎপরতায় স্পষ্ট,কতটা সতর্ক ছিল তারা। আগে বেলা ১২ টায় নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানালেও সকাল ১০ টা নাগাদ কড়া পুলিশি পাহারার মধ্য দিয়ে অমরদীপকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। আদালতে ঢোকার খবর পাওয়ার পরেই ধীরে ধীরে ভিড় বাড়তে থাকে। ২৫ থেকে ৪০ বছরের যুবকদের ভিড় ক্রমাগত আদালতে বাড়তে থাকায় পুলিশের আধিকারিকরাও সতর্ক হয়ে যান। ভীতি এতটাই ছিল যে- এজলাসে নিয়ে যাওয়ার সময়ে যে কেউ ছিনতাই করে নিয়ে যেতে পারে তাকে, এই ভয়ে আদালতের লকআপ থেকে বার করা হয়নি অমরদীপকে। প্রায় সাড়ে তিনটা থেকে পৌনে চারটা নাগাদ বিচারক পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেওয়ার পর ইংলিশবাজার থানা থেকে বিপুল পুলিশবাহিনী পাঠানো হয় আদালতে। আদালত চত্বরকে ফাঁকা করা হয়। লোকমুখে খবর ছড়ানো হয় যে, সন্ধ্যা ৬টা- ৭ টা নাগাদ আদালত থেকে থানায় নিয়ে যাওয়া হবে অমরদীপকে। খবর ছড়াতেই আস্তে আস্তে ভিড় কমতে থাকে এলাকাতে। বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ আচমকা থানার একটি গাড়িকে আদালত লকআপের কাছে দ্রুত নিয়ে এসে ঝটপট অভিযুক্তকে সেটিতে তুলে নিয়ে অন্য পুলিশের গাড়ির নিরাপত্তাতে ঝড়ের গতিতে বের হয়ে যায় পুলিশ।

Advertisement

অভিযুক্তকে এইভাবে লুকিয়ে প্রায় লোকচক্ষুর আড়াল করে নিয়ে যাওয়ার পিছনেও রয়েছে তার বাহিনীর ‘ভয়’। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, অমরদীপের এই বাহিনীর তাণ্ডব যদি পুলিশের কাছেও মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সাধারণ মানুষ কতটা আতঙ্কে ছিল, তা স্পষ্ট। যদিও তৃণমূল জমানা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সকল ‘গুন্ডা’দের ত্রাস শেষ হয়েছে বলে দাবি করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। এই প্রসঙ্গে বিজেপির দক্ষিণ মালদহ (সাংগঠনিক) জেলা সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী আগেই বলেছেন ভয়মুক্ত সমাজ গড়তে হবে। কাজেই এই সব সমাজবিরোধী আর মানুষের কাছে ত্রাস হতে পারবে না। • নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ