নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: কারোর পুরো হাতে রংবেরংয়ের ট্যাটু। কারোর জুলফি কানের নীচ পর্যন্ত ঝোলা। কারোর কামিজের বোতাম বুক পর্যন্ত খোলা থাকায় জ্বলজ্বল করছে সোনার মোটা চেইন। কারোর মুখের দাড়ি, কানের দুল আর শ্যেনদৃষ্টি সাধারণ মানুষের বুকের ভেতর ধড়ফড়ানি তৈরি করতে যথেষ্ট। খানিকটা দক্ষিণ ভারতের বড়োসড়ো অ্যাকশন ছবির ভিলেনের চ্যালাচামুন্ডাদের ঢঙে, হাবভাবে সকলকে চমকাতে কাফি অমরদীপ বাহিনী। তাদের হাতের দামী মোবাইল ফোনও যে কারোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বাধ্য। এমনকি, অমরদীপকে আদালতের লকআপ থেকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় গোপন রাখা নিয়ে পুলিশের তৎপরতায় স্পষ্ট,কতটা সতর্ক ছিল তারা। আগে বেলা ১২ টায় নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানালেও সকাল ১০ টা নাগাদ কড়া পুলিশি পাহারার মধ্য দিয়ে অমরদীপকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। আদালতে ঢোকার খবর পাওয়ার পরেই ধীরে ধীরে ভিড় বাড়তে থাকে। ২৫ থেকে ৪০ বছরের যুবকদের ভিড় ক্রমাগত আদালতে বাড়তে থাকায় পুলিশের আধিকারিকরাও সতর্ক হয়ে যান। ভীতি এতটাই ছিল যে- এজলাসে নিয়ে যাওয়ার সময়ে যে কেউ ছিনতাই করে নিয়ে যেতে পারে তাকে, এই ভয়ে আদালতের লকআপ থেকে বার করা হয়নি অমরদীপকে। প্রায় সাড়ে তিনটা থেকে পৌনে চারটা নাগাদ বিচারক পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেওয়ার পর ইংলিশবাজার থানা থেকে বিপুল পুলিশবাহিনী পাঠানো হয় আদালতে। আদালত চত্বরকে ফাঁকা করা হয়। লোকমুখে খবর ছড়ানো হয় যে, সন্ধ্যা ৬টা- ৭ টা নাগাদ আদালত থেকে থানায় নিয়ে যাওয়া হবে অমরদীপকে। খবর ছড়াতেই আস্তে আস্তে ভিড় কমতে থাকে এলাকাতে। বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ আচমকা থানার একটি গাড়িকে আদালত লকআপের কাছে দ্রুত নিয়ে এসে ঝটপট অভিযুক্তকে সেটিতে তুলে নিয়ে অন্য পুলিশের গাড়ির নিরাপত্তাতে ঝড়ের গতিতে বের হয়ে যায় পুলিশ।



