নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর চাকচিক্য এখানে এসে পৌঁছায় না। মণ্ডপের ভিড়ও নেই। আকাদেমি চত্বরের পাশে বাস স্টপেজের ফুটপাতে সেই আপাত নিরিবিলি জায়গায় একাকী বসে থাকেন বৃদ্ধ অমলেন্দু। সঙ্গে কয়েকটি ছোট্ট একচালার দুর্গা প্রতিমা। নিজের হাতেই তৈরি করেন। এখানে নিয়ে এসে বিক্রি করেন। ইদানীংকালে লোকমুখে তাঁর এই শিল্পের কথা ছড়িয়ে পড়েছে। আসছে বিদেশ থেকেও অর্ডার। আবার কেউ বলে যাচ্ছেন, আমাকে একটা অন্নপূর্ণা ঠাকুর তৈরি করে দিন। সেই বায়নাও নিচ্ছেন অমলেন্দু।
ব্যাকব্রাশ করা কাঁচাপাকা চুল, কামানো দাড়ি আর সরু গোঁফের এই বৃদ্ধ শিল্পীর মধ্যে সত্তরের দশকের কলকাতার বাঙালিয়ানা ফুটে ওঠে। নিউ আলিপুরের বাসিন্দা অমলেন্দু বিশ্বাস বলছিলেন, ‘সেই স্কুলে পড়ার সময় থেকে মনে হতো, একটু মাটি পেলে ঠাকুর তৈরি করব। কুমোরটুলিতে যেতাম। সেখান থেকে একবার মাটি নিয়ে এসে পুতুল তৈরি করি। কখনও শিখিনি। তখন বিক্রি করতাম না।’ মহামারির পর থেকে অমলেন্দুবাবু এই ফুটপাতেই ঠাকুর নিয়ে বসছেন। কেউ একজন তাঁর এই শিল্প দেখে এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তারপর থেকে ভালোই চলছে বিক্রি বাটোয়ারা। একটা সময় অমলেন্দুবাবু শাড়ির ফলস-পিকো বসাতেন। তারপর সেসব ছেড়ে নিজের নেশাকেই পেশা করে নিলেন। মাটি দিয়েই তৈরি করেন একচালার ঠাকুর। রং নিজেই কিনে নিয়ে আসেন। কেউ দেখতে এলেই একগাল হেসে অমলেন্দুবাবু বলেন, ‘এই জিনিস আর কোথাও পাবেন না। একেবারে হাতে তৈরি।’
বিকেলে চায়ে চুমুক দিয়ে শিল্পীর বক্তব্য, ‘এই জিনিস ছাড়া আমি বাঁচব না। কিছু করি বা না করি এই মূর্তি আমাকে তৈরি করতেই হবে।’