জো পল আনচেরি: ফুটবল কেরিয়ারের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়। কটকে সন্তোষ ট্রফি খেলছি কেরলের হয়ে। ফাইনালে প্রতিপক্ষ বাংলা। আমি বিজু ভাইয়ের (আইএম বিজয়ন) রুম মেট। ম্যাচের আগের রাতে ঘুমতে যাব, এমন সময় ও বলল, কাল ভালো করে খেলিস। মোহন বাগান-ইস্ট বেঙ্গল কর্তারা ম্যাচটা দেখবে। যেমন বলা তেমন কাজ। বাংলার কাছে আমরা হারলেও প্রস্তাব পেলাম ঐতিহ্যশালী দুটো ক্লাবের থেকেই। বিজু ভাই তখন মোহন বাগানের স্টার। তাই ওর পরামর্শ মেনেই সবুজ-মেরুন শিবিরে সই করেছিলাম।
কলকাতায় খেলার স্বপ্ন শৈশবের। ময়দানের তিন বড় দল তখন ভারতীয় ফুটবল দাপাচ্ছে। আশাপূরণের অনন্দে উদ্বেল হয়ে পা রেখেছিলাম কলকাতায়। ঘোর কাটল প্রথম ম্যাচেই। মোহন বাগানের কোচ তখন শঙ্কর ব্যানার্জি। মহমেডান স্পোর্টিংয়ের বিরুদ্ধে আমায় প্রথম একাদশে রেখেছিলেন। খেলা যুবভারতীতে। প্রথমবার সবুজ-মেরুন জার্সি পরে মাঠে নামার অনন্দ নিমেষে ধুকপুকানিতে পরিণত হল যুবভারতীর টানেলেই। এত দর্শকের সামনে আগে কখনও খেলিনি। সত্যি বলছি, দুরুদুরু বুকে মাঠে নেমেছিলাম। কিন্তু ম্যাচ শেষে বদলে গিয়েছিল ছবিটা। গোল করে দলকে জিতিয়ে সেদিন আমি হিরো। ম্যাচের পর বাসে উঠতে হয়েছিল সমর্থকদের কাঁধে চেপে। প্রথম মরশুমেই বুঝছিলাম কলকাতা লিগের গুরুত্ব। মারকাটারি খেলা। ছোট দলগুলোর বিরুদ্ধেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। সমর্থকদের স্রেফ একটাই আবদার— জিততে হবে!
ঘরোয়া লিগেই মরশুমের স্ট্র্যাটেজি ঠিক করত বড় দলগুলো। মনে আছে, ১৯৯৮ সালের কথা। সেবার মোহন বাগানের কোচ অমল দত্ত। কলকাতা লিগের কোনও একটা ম্যাচে অমলদা আমায় সুইপার হিসেবে খেলতে বললেন। রাজি হয়নি প্রথমে। কিন্তু পরে ওই পজিশনে খেলেই বেশি সাফল্য পেয়েছি। আজও তার জন্য প্রয়াত অমলদাকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু খারাপ লাগে যখন শুনি, কলকাতা লিগের জৌলুস কমেছে। খেলা হয় জেলার মাঠে। গ্যালারি ভরে না। বিষয়টা নিয়ে আইএফএ’র ভাবা উচিত। বাংলার ফুটবলের সাপ্লাই লাইন এই লিগ। ফুটবলার তুলে আনতে হলে ঘরোয়া লিগের গুরুত্ব বাড়াতে হবে। ময়দানে ফেরাতে হবে লিগ। কারণ দর্শক ছাড়া ভালো খেলার মোটিভেশন পাওয়া যায় না। তবে আইএফএ’র বিদেশিহীন লিগ করার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। এতে স্থানীয় ফুটবলাররা বেশি সুযোগ পাবে। তাতে লাভ হবে বাংলার ফুটবলের।