Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এনবিইউ’র সমস্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রাক্তনীরা কলকাতা চ্যাপটারের ষষ্ঠ পুনর্মিলনে উঠে এল অবক্ষয় প্রসঙ্গ

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমাগত অবনমন নিয়ে শুধু যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চিন্তিত তা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনীরাও এই বিষয়টি নিয়ে প্রচণ্ড উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন

এনবিইউ’র সমস্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রাক্তনীরা কলকাতা চ্যাপটারের ষষ্ঠ পুনর্মিলনে উঠে এল অবক্ষয় প্রসঙ্গ
  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমাগত অবনমন নিয়ে শুধু যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চিন্তিত তা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনীরাও এই বিষয়টি নিয়ে প্রচণ্ড উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। নর্থ বেঙ্গল ইউনির্ভাসিটি অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আগস্ট মাসেও রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেহাল দশার কথা জানিয়ে দ্রুত উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে। সেইসঙ্গে রাজ্যপালের কাছেও তাঁরা একই আবেদন জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। 

Advertisement

গত ৩০ মাস ধরে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যহীন অবস্থায়। কীভাবে পঠনপাঠন থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কাজ সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে একশোর কাছাকাছি শিক্ষক কম। তার উপর এবার স্নাতকোত্তরে মোট আসনের তুলনায় ছাত্র ভর্তির সংখ্যা অর্ধেকে নেমেছে। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেই মনে করা হচ্ছে। ছাত্র ভর্তির জন্য আবারও বিজ্ঞাপন দিতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। 
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনীদের সংগঠনের সদস্য দীপায়ন ভট্টাচার্য বলেন, আমরা চাই উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ করা হোক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংখ্যা কমছে। শুনেছি, এবার বাংলা বিভাগে মাত্র ৭ জন ছাত্র ভর্তি হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা কম। তবু আমরা বসে নেই। রাজ্যপাল ও উচ্চ শিক্ষামন্ত্রীর কাছে উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়ে আবেদন করেছি। আমরা চাই, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় আগের অবস্থায় ফিরে আসুক। 
একসময় হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনো করে সমাজের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তাঁরাও চাইছেন তাঁদের গর্বের বিশ্ববিদ্যালয় হৃতগৌরব ফিরে পাক। গত শনিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবেকানন্দ শতবার্ষিকী হলে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তনী সমিতির কলকাতা চ্যাপটারের ষষ্ঠ বার্ষিক পুনর্মিলন ও  সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন সমিতির সম্পাদক ফজলুর রহমান। প্রথমেই সমিতির বর্ষীয়ান সদস্য বিশিষ্ট বিজ্ঞানী বিপুলবিহারি সাহার প্রয়াণে শোক জ্ঞাপন করা হয়। সমিতি প্রকাশিত ‘স্মৃতির আলোয় প্রাক্তনীরা’ শীর্ষক সম্পাদিত গ্রন্থের উদ্বোধন হয়। সমিতির অপর গবেষণা গ্রন্থ ‘ক্রনিক্যালস অফ ট্রানজিশন অ্যান্ড  ফিউশন: রিফ্লেকশনস অন কনটেম্পোরারি ইন্ডিয়া’ ওই দিন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য প্রকাশ হয়নি। তবে কিছুদিনের মধ্যে ক্যাম্পাসে সমিতির রজতজয়ন্তী বর্ষের সমাপন অনুষ্ঠানে গ্রন্থটির মলাট উন্মোচন হবে বলে জানা গিয়েছে। প্রকাশিত বইটিতে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৬২-২০২৫ পর্যন্ত সময়কালের ৩৯জন প্রাক্তনীর বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠন ও গবেষণার স্মৃতিচারণা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও বিকাশের পথযাত্রার এক অনন্য দলিল রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 
কলকাতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পদার্থবিদ গৌরপদ দাস। সঙ্গীত, আবৃত্তি সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অবক্ষয় নিয়ে সদস্যরা আলোচনা করেছেন। যে বিশ্ববিদ্যালয় একসময় ছাত্র-শিক্ষকের উপস্থিতিতে গমগম করত সেখানে এখন কেন অবক্ষয়ের প্রশ্ন উঠছে? কেন এই সমস্ত প্রাক্তনীদের জীবনের শেষপ্রান্তে এসে তাঁদের যৌবনের গর্বের বিশ্ববিদ্যালয়কে এভাবে দেখতে হচ্ছে? যা নিয়ে তাঁরা কার্যত হতাশ হলেও বারবার আবেদন নিবেদন করে চলেছেন। তবে কাটবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জট তা স্পষ্ট করে কারও জানা নেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ