নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: যাত্রীরা যাতে নিরাপদে রেললাইন পারাপার করতে পারেন, সেকারণেই তৈরি করা হয়েছিল ফুট ওভারব্রিজ। কিন্তু তাতেও অভ্যাাস বদলায়নি যাত্রীদের। তাঁরা যেমন ছিলেন, তেমনই রয়ে গিয়েছেন। ধূ ধূ করে ফুট ওভারব্রিজ, অথচ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে মালগাড়ির নীচে দিয়েই তাঁরা পারাপার করেন রেললাইন। নিত্যদিন এই ছবি চোখে পড়ে হাওড়ার সাঁকরাইল রেল স্টেশনের ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। ফলে যে কোনও দিন বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
সাঁকরাইল স্টেশনের পাশেই রয়েছে ১১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক। আশপাশে রয়েছে বেশ কিছু ছোট-বড় কারখানা, সব্জি ও মাছের বাজার। দৈনন্দিন জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে হাজার হাজার মানুষ জাতীয় সড়ক থেকে সাঁকরাইল স্টেশনের ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যাওয়া আসা করেন। আগে ফুট ওভারব্রিজ না থাকায় বাধ্য হয়ে প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই রেললাইন পারাপার করতে হতো যাত্রীদের। তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে রেল কর্তৃপক্ষ একটি ফুট ওভারব্রিজ তৈরি করে দেয়। কিন্তু সেটি ব্যবহার করতে চরম অনীহা যাত্রীদের। সামান্য কিছু সময় বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগের মতো লাইন পারাপার করেন তাঁরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কথায়, অনেক সময় মাঝের লাইনে মালগাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে। সেই ট্রেনের নীচে দিয়েই চলে লাইন পারাপার। ওই অবস্থায় মালগাড়ির চাকা গড়াতে শুরু করলে প্রাণহানির ঘটনা আটকানো যাবে না। নিত্যযাত্রী শঙ্কর সরকার বলেন, ‘মূলত ডাউন লাইনে ট্রেন ধরতে বেশি মানুষ ভিড় করেন। কিন্তু কেউই ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করতে চান না। কিছুদিন আগে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়ির নীচে দিয়ে লাইন পারাপারের সময় অল্পের জন্য এক যাত্রী প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন।’
এদিন সাঁকরাইল স্টেশনের ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে গিয়ে দেখা গেল, নব্বই শতাংশ যাত্রীই ওভারব্রিজ ব্যবহার করছেন না। কেন প্রাণের ঝুঁকি নিচ্ছেন, জিজ্ঞাসা করতেই যাত্রীদের একাংশের উত্তর, ‘ওভারব্রিজের সিঁড়ি অনেকটা খাড়াই। বয়স্ক যাত্রীদের পক্ষে তাই সেটি ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তাছাড়া সব্জির বড় বড় ঝুড়ি মাথায় নিয়ে ব্যবসায়ীরা সিঁড়ি বেয়ে উঠতে পারেন না। সিঁড়িগুলি আগে ঠিক করা হোক।’
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, রেলের উচিত লাইনের পাশের এলাকা ঘিরে দেওয়া উচিত। যাতে কেউ লাইন টপকে যেতে না পারেন। একমাত্র তাহলেই বিপদ এড়ানো যাবে। দক্ষিণ পূর্ব রেলের এক আধিকারিক বলেন, ‘যাত্রী সুরক্ষায় রেল সব সময় ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের কখনই লাইন পারাপার করা উচিত নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’ - নিজস্ব চিত্র