Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শান্তিতে ভোট মিটলেও কমিশনের অব্যবস্থার শিকার হলেন ভোটাররা

শান্তিপূর্ণ ভোট হলেও উৎসবের মেজাজ দেখা গেল না।

শান্তিতে ভোট মিটলেও কমিশনের অব্যবস্থার শিকার হলেন ভোটাররা
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০

অভিজিৎ চৌধুরী, চুঁচুড়া: শান্তিপূর্ণ ভোট হলেও উৎসবের মেজাজ দেখা গেল না। বরং ভয়ের বাতাবরণেই হুগলিতে ভোট দিল আমজনতা। চণ্ডীতলা থেকে চুঁচুড়া, চন্দননগর থেকে পাণ্ডুয়া— বুধবার দিনভর সেই দৃশ্যই ধরা পড়েছে। ইতস্তত বিক্ষিপ্ত ঘটনা, অভিযোগ ছাড়া সর্বত্র সুষ্ঠুভাবে ভোট হয়েছে। কিন্তু ভোটদাতাদের মধ্যে উৎসাহের ছবি ধরা পড়েনি। গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্রই যেন শোকের আবহে ভোট দিতে এসেছেন নাগরিককুল। ভোট পড়েছে অনেক প্রায় ৯১.৪২ শতাংশ, জানিয়েছে কমিশন। কিন্তু কোথাও বিরাট ভিড় যেমন ছিল না, তেমনই গুটিকয় মানুষের আনাগোনাতেও ছিল শ্মশানের শান্তির আবহ। দিনের শেষ হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তর দাবি করেছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে।

Advertisement

যদিও কমিশনের অব্যবস্থা ও অতিসক্রিয়তার কারণে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। শাসক-বিরোধী সব মহলই তা নিয়ে অভিযোগ করেছে। সাতসকালে চুঁচুড়ায় তৃণমূলের একাধিক ক্যাম্প অফিস কেন্দ্রীয় বাহিনী তছনছ করে দেয়। মগরায় একই ঘটনা ঘটিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তা নিয়ে একদফা উত্তেজনা ছড়ায়। চুঁচুড়ার ইমামবাড়ার একটি মডেল বুথে ভোটগ্রহণ অনেক দেরিতে শুরু হয়। একাধিক জায়গায় ইভিএম মেশিন খারাপ হওয়ার কারণে ভোটগ্রহণ চালু করতে সময় লাগে। পাণ্ডুয়ার তিনটি বুথে পরিকল্পিতভাবে লোডশেডিং করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র তথা প্রার্থী সমীর চক্রবর্তী। চন্দননগরে ভোটদাতাদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। ভোটের লাইন ঠিক করার নামে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ। আবার, সপ্তগ্রামে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বুথে বিজেপি প্রার্থী স্বরাজ ঘোষের বিরুদ্ধে বুথ জ্যাম করার অভিযোগ তুলে সরব হন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার অমিত ঘোষ। তা নিয়ে একদফা উত্তেজনা ছড়ায়। তারপর পরিস্থিতি সামাল দিতে এসে সাধারণ ভোটার ও নাগরিকদের উপরে হম্বিতম্বি শুরু করেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। ওই ঘটনার পরে স্থানীয় বিজেপি কর্মী সুব্রত মুখোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, কমিশন কখনও অতিসক্রিয়, কখনও নিষ্ক্রিয়। উৎসবের মেজাজ ছাড়াই ভোট হওয়া নিয়ে কমিশনকে একহাত নিয়েছেন হুগলি জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান অসীমা পাত্র। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে, মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ঢেলে ভোট দিয়েছেন। সেইসব নাগরিকদের আমরা অভিনন্দন জানাই। কিন্তু দিনভর কমিশন যে পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছিল, তাতে নাগরিকরা অপরাধীর মতো ভোট দিতে গিয়েছেন মাত্র। ভোট যে উৎসব, সেই মেজাজটাই এদিন ছিল না। সঙ্গে কমিশনের অব্যবস্থার জেরে নাগরিকদের ভোগান্তি হয়েছে।
বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, শাসকদলের মাতব্বরদের সমঝে দিয়েছে কমিশন। ভোট অবাধ-শান্তিপূর্ণ-সুষ্ঠু হয়েছে। সিপিএমের জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ বলেন, ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনায় কমিশনের অব্যবস্থা দেখা গিয়েছে। এসআইআর আতঙ্ক এখনও মানুষকে তাড়া করছে। তাই স্বতঃস্ফূর্তভাব কিছুটা হয়তো কম 
ছিল। 

সম্পর্কিত সংবাদ