রাসচক্র বানাচ্ছেন আলতাফ পুত্র আমিনুর কোজাগরী পূর্ণিমায় কাজ শুরু
  • ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপন দত্ত, কোচবিহার: বাবা আলতাফ মিয়াঁ প্রয়াত হয়েছেন ২০২৩ সালে। তিনি যখন অসুস্থ ছিলেন তখন তাঁকে সহায়তা করতেন। শেষবার বাবার অসুস্থতার কারণে রাসচক্র বানিয়েছিলেন। এরপর বাবা প্রয়াত হন। ২০২৪ সাল থেকে একাই রাসচক্র বানাতে হচ্ছে। বাবার অবর্তমানে তৃতীয়বার রাসচক্র বানাচ্ছেন। বংশের চতুর্থ পুরুষ হিসাবে রাসচক্র তৈরির দায়িত্ব এখন আলতাফ মিয়াঁর পুত্র আমিনুর হোসেনের হাতে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন কোচবিহারের মহারাজাদের শুরু করা রাস উৎসবের প্রধান আকর্ষণ রাসচক্র তৈরির কাজ শুরু হলো। 

Advertisement

রবিবার সকাল থেকে ঘরে ঘরে ধনদেবীর আরাধনা শুরু হয়ে যায়। সেই সঙ্গে কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরের কাঠামিয়া মন্দিরে মহালক্ষ্মীর পুজো হয়। অন্য দিকে, কোচবিহারের হরিণচওড়া এলাকায় তোর্সা নদীর বাঁধের ধারে আলতাফ মিয়াঁর ছেলে আমিনুর হোসেনের বাড়িতে এদিন ছিল অন্য রকমের ব্যস্ততা। এদিনই রাসচক্র তৈরির কাজ শুরু হয় এই বাড়িতে। গত প্রায় দেড় শতক ধরে বংশপরম্পরায় চার পুরষ রাসচক্র তৈরি করে আসছেন তাঁরা।
এদিন সকাল সকাল বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। আমিনুর হোসেন নির্দিষ্ট জায়গায় বসেছেন। বাবার অবর্তমানে তাঁকে গত দুই বছর ধরে একাই রাসচক্র বানাতে হচ্ছে। তাই প্রতি মুহুর্তে সজাগ থাকতে হচ্ছে।
আমিনুর হোসেন বলেন, একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের পরিবার রাসচক্র তৈরি করে আসছে। আমি চতুর্থ পুরুষ। আমার আগে আমার বাবা আলতাফ মিয়াঁ, তাঁর আগে আমার ঠাকুরদা আজিস মিয়াঁ ও সর্ব প্রথম আমার প্রপিতামহ পান মহম্মদ মিয়াঁ এই রাসচক্র তৈরি করতেন। 
কোচবিহারের বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক দেবব্রত চাকি বলেন, আধুনিক রাস উৎসব ও তাকে কেন্দ্র করে রাসমেলা চালু করেছিলেন মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণ ভূপবাহাদুর।
রাস উৎসবের আর একমাসও বাকি নেই। বাড়িতে রাসচক্র তৈরির সময় আমিনুর হোসেনের হেঁসেলে মাছ, মাংস ঢোকে না। সপরিবারে সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার খাবেন তিনি ও তাঁর পরিবার। ১৮৯০ সালে মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণ মদনমোহন মন্দিরের দ্বারোদঘাটন করেন। এখানে প্রতি বছর রাস পূর্ণিমাতে মদনমোহনের রাসযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এই রাসযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ রাসচক্র। বাঁশের উপর কাগজের কারুকার্য করে অপূর্ব এই রাসচক্র নির্মাণ করা হয়। আমিনুর হোসেন বাড়িতে বসে এই রাসচক্র নির্মাণ কারুকার্য করার পর সেটি মদনমোহন মন্দিরে নিয়ে আসা হবে। বৈরাগী দিঘি থেকে তোলা রাসচক্রের সুবিশাল খুঁটি আগেই প্রস্তুত করে রাখা হবে। তার উপরে এই রাসচক্রকে বসানো হবে। রাসযাত্রার দিন ও পরবর্তীতে রাসমেলা চলাকালীন সময়ে লক্ষ লক্ষ পূণ্যার্থী এই রাসচক্র ঘুরিয়ে পূণ্য অর্জন করে আসছেন।  কাজে ব্যস্ত আমিনুর। - নিজস্ব চিত্র