নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শূন্য ছাত্র সংখ্যার প্রাথমিক স্কুলগুলি থেকে শিক্ষকদের অন্য স্কুলে বদলির নির্দেশ জারি করল শিক্ষাদপ্তর। স্কুলশিক্ষা কমিশনারের নির্দেশে বলা হয়েছে, ছাত্রের অনুপাতে শিক্ষক যে সব স্কুলে কম রয়েছে, সেখানে এই শিক্ষকদের স্থানান্তর করতে হবে। সরকারি ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে ‘র্যাশনালাইজেশন অব টিচার্স’ বলা হয়। তবে, এই অর্ডার ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে শিক্ষামহলের। একাংশের বক্তব্য, এর ফলে পড়ুয়া শূন্য স্কুলগুলি কার্যত তুলে দেওয়ার পথেই হাঁটছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও এ ধরনের স্কুলগুলি চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনার সুপারিশ করেছিলেন।
শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, সবে উৎসশ্রী পোর্টাল চালু হল। তবে, র্যাশনালাইজেশন হলে অনেক শিক্ষকই নিজের জেলার স্কুলে ফেরার সুযোগ হারাবেন। বরং আগে উৎসশ্রীর মাধ্যমে বদলি কার্যকর করে র্যাশনালাইজেশন চালু করা হোক। সংগঠনটি এই সম্বলিত দাবি কমিশনারের কাছেও চিঠি আকারে পাঠিয়েছে। অন্যদিকে, আরও একটি আশঙ্কা হল, পড়ুয়া শূন্য স্কুলগুলি উঠে যাওয়া। তৃণমূল আমলে স্কুলবন্ধ হওয়া নিয়ে বিজেপি ভোটের আগেও সরব ছিল। নতুন সরকারও বিগত সরকারের এই বিষয়টি নানা মঞ্চে উল্লেখ করে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। তাহলে কি এই আমলেও স্কুল বন্ধ হতে থাকবে?
বিজেপি শিক্ষক সেলের আহ্বায়ক পিন্টু পাড়ুই বলেন, র্যাশনালাইজেশন হবে একই সার্কেলে। আর উৎসশ্রীর মাধ্যমে বদলি হতে পারে রাজ্যের যে কোনও জায়গা থেকে। তাই দু’টির মধ্যে কোনও বিরোধ নেই। সংগঠনের তরফে আশ্বাস দিতে পারি, একটি স্কুলও বন্ধ হবে না। যেখানকার স্কুলে পড়ুয়া নেই বা কম রয়েছে, সেই সব অঞ্চলে গিয়ে অভিভাবক, এলাকার মানুষকে আমরা বোঝাব। যাতে তাঁরা সরকারি স্কুলে বাচ্চাদের পাঠান, সে ব্যাপারে তাঁদের উৎসাহিত করা হবে।