নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি। তারমধ্যে ক্রমাগত ডিভিসি জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়াচ্ছে। যার জেরে আরামবাগ মহকুমায় নদীগুলির জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে। খানাকুলের নিচু এলাকাগুলির একাংশ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। খানাকুল ২ ব্লকের মারোখানা, জগৎপুর পঞ্চায়েতের কিছু নিচু এলাকায় জল জমে গিয়েছে। বিপাকে পড়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা। যান চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে। নদীতে জল বাড়তে থাকায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বাসিন্দারা। নৌকা মেরামতির কাজও শুরু করেছেন অনেকে। কারণ বন্যা পরিস্থিতি হলে সড়কপথে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে। তখন একমাত্র ভরসা নৌকা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দামোদর নদের জলস্তর ছিল ১১.৪৫ মিটার। মুন্ডেশ্বরী নদীতে জলস্তর বেড়ে হয়েছে ১০.৮৫ মিটার। মুন্ডেশ্বরীর প্রাথমিক বিপদসীমা ১২.১৯ মিটার। রূপনারায়ণ নদের জলস্তর ৬.৭০ মিটার। রূপনারায়ণের প্রাথমিক বিপদসীমা ৬.২৪ মিটার, বিপদসীমা ৬.৮৫ মিটার। দ্বারকেশ্বরের জলস্তর অবশ্য এদিন অনেকটাই কমে গিয়েছে। প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, দামোদর, মুন্ডেশ্বরী নদীতে জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। রূপনারায়ণ বিপদসীমা ছুঁয়েছে। কিন্তু দুপুরের পর জল কিছুটা কমেছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
জানা গিয়েছে, মায়াপুর গড়েরঘাট রাজ্য সড়কের উপর জগদীশতলায় রাস্তার উপর প্রায় একহাঁটু জল জমে গিয়েছে। তরফলে বাসগুলি কোনওমতে যাতায়াত করলেও ছোট যানগুলি চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। এছাড়া মারোখানা পঞ্চায়েতের কয়েকটি গ্রামের রাস্তাতেও শনিবার বিকেল থেকে জল জমে। এদিন আবার কিছু জায়গায় জল নেমেও যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা নদীর সঙ্গে সংযোগকারী খালগুলি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। খানাকুল ২ বিডিও মহম্মদ জাকারিয়া বলেন, এখনই বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা নেই। কিছু জায়গায় বৃষ্টির জল জমেছে। সেখান থেকে নামছেও জল। যেসব নিচু জায়গায় জল জমে রয়েছে সেখানে ব্লিচিং, চুন ছড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।