নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতাভুক্ত রেশন গ্রাহকদের ‘ই-কেওয়াইসি’ প্রক্রিয়া ৩০ এপ্রিলের মধ্যেই সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দেশের সমস্ত খাদ্যদপ্তরকে। ওই সময়ের মধ্যে ১০০ শতাংশ ই-কেওয়াইসি না-হলে খাদ্য খাতে ভর্তুকি বা খাদশস্য বরাদ্দ স্থগিত হয়ে যাবে। সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত এলাকাগুলিকে লিখিতভাবেই তা জানিয়ে দিয়েছে খাদ্যমন্ত্রক। ই-কেওয়াইসির জন্য গ্রাহকের আধারের বায়োমেট্রিক যাচাই করা হয়। গ্রাহকের আধার-মোবাইল যোগ থাকলে ওটিপির মাধ্যমেও এটি করা সম্ভব। রেশন বণ্টনে স্বচ্ছতা আনতেই এই ব্যবস্থা।
বেশিরভাগ রাজ্যই ই-কেওয়াইসি’তে পিছিয়ে। একেবারে প্রথম সারিতে অবশ্য পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্য খাদ্যদপ্তরের সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, গ্রাহকদের মধ্যে ৯৪.৪৮ শতাংশের ই-কেওয়াইসি রয়েছে। কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে সামান্যই এগিয়ে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, হিমাচলপ্রদেশ ও কর্ণাটক। দেশের মাত্র ১৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত এলাকায় ৮০ শতাংশের বেশি ই-কেওয়াইসি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাতসহ বিজেপিশাসিত একাধিক বড় রাজ্যের হাল খুবই খারাপ। হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ড ও মহারাষ্ট্রে ই-কেওয়াসি ৫০ শতাংশেরও কম!
ওয়েস্ট বেঙ্গল ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানান, ১৫ মার্চ পাঠানো ওই চিঠিতে ধার্য করা এই সময়সীমা বাড়বে বলেই তাঁরা আশা করেন। খাদ্যমন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। রেশন গ্রাহকদের আধার সংযোগের সময়সীমা ইতিমধ্যেই বাড়িয়ে জুন পর্যন্ত করেছে কেন্দ্র। তারপরেও ক’টি রাজ্য ই-কেওয়াইসি ১০০ শতাংশ করতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।