সংবাদদাতা, বারুইপুর: দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে জমা জলের সমস্যায় জর্জরিত বারুইপুর পুরসভার বড় এলাকা। এই জল বেরনোর অন্যতম পথ আদিগঙ্গা। কিন্তু রেলের লক্ষ্মীকান্তপুর শাখার দু’টি জায়গা ও ডায়মন্ডহারবার শাখার একটি জায়গায় আদি গঙ্গার উপর কালভার্টের মুখ খুবই ছোট। ফলে সেখানে জলপ্রবাহ বাধা পাচ্ছে। সমস্যা সমাধানে কালভার্টের মুখ আরও চওড়া করার চিন্তাভাবনা করেছিল সেচদপ্তরের মগরাহাট ড্রেনেজ ডিভিশন। কাজের জন্য সেচদপ্তর থেকে ১০ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা ধার্য করে রেলকে দেওয়া হয় কয়েক বছর আগে। অভিযোগ, সেই কাজ শুরু হয়েও থমকে গিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষের টালবাহানায়। এমনকী, সেচদপ্তর থেকে বারংবার চিঠি দেওয়া হলেও কবে কাজ শেষ হবে, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি তাদের। এই উদাসীনতার ফল এখন ভুগতে হচ্ছে বারুইপুর পুরসভার জলমগ্ন ওয়ার্ডের নাগরিকদের। এই প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, বিষয়টি জেনে মন্তব্য করব। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে পুরসভা এলাকা ঘেঁষা পঞ্চায়েত এলাকায় খাল সংস্কারও বন্ধ। নিকাশি ঠিকমতো পরিষ্কার না হওয়াও এই জল জমার অন্যতম কারণ। বারুইপুর পুরসভার চেয়ারম্যান শক্তি রায়চৌধুরী বলেন, খাল সংস্কারের জন্য সেচদপ্তরকে বলা হয়েছে। সূর্যপুর খালও সংস্কার দরকার। মগরাহাট ড্রেনেজ ডিভিশন সূত্রে খবর, রেল থেকে বারংবার বলা হচ্ছে বর্ষা চলছে। তাই কাজ বন্ধ। ডায়মন্ডহারবার শাখার কাজ এগিয়েছে। কিছু বাকি আছে। আবার লক্ষ্মীকান্তপুর শাখার কাজ অর্ধেক হয়ে পড়ে আছে। এপ্রিল মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা বলা হলেও তা হয়নি। বারুইপুর পুরসভায় ১৭টি ওয়ার্ড। এর মধ্যে ফি বছর জমা জলের সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ১০, ১১, ১৩, ১৪, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের। জল দু’দিনের বেশি সময় ধরে জমে থাকছে। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, রেলের কালভার্ট সংস্কার কেন হচ্ছে না, সেই নিয়ে কোনো নজরদারি নেই প্রশাসন ও পুরসভার। বছরের পর বছর তা আটকে। এছাড়া নর্দমার নীচে কাদা নিয়মিত তোলেন না পুরসভার সাফাইকর্মীরা। অনেক জায়গায় নর্দমার মুখ আটকে আছে। কয়েক মাস আগে পেভার ব্লক বসিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। অলিগলি আরও নিচু হয়ে গিয়ে জলমগ্ন হচ্ছে। কিন্তু হুঁশ নেই পুরসভার।-নিজস্ব চিত্র



