নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের নতুন দু’টি মেট্রো রুটের জন্য ৯০০ কোটি টাকা খরচ করে আসছে ঝাঁচকচকে ৮০টি অত্যাধুনিক রেক। কবি সুভাষ থেকে বিমানবন্দর (জয় হিন্দ) এবং জোকা থেকে এসপ্ল্যানেড মেট্রো করিডরে যাত্রী পরিষেবা দেবে এই রেকগুলি। রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (আরভিএনএল) সম্প্রতি এই সংক্রান্ত দরপত্র আহ্বান করেছে। বরাতপ্রাপ্ত সংস্থাকেই সংশ্লিষ্ট রেকগুলির নকশা তৈরি থেকে নির্মাণ এবং তা লাইনে নামিয়ে পরীক্ষার পর যাত্রী পরিষেবা শুরু পর্যন্ত দায়িত্ব নিতে হবে। এই দুই মেট্রো করিডরের জন্য স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা অর্থাৎ কমিউনিকশন বেসড ট্রেন কন্ট্রোল (সিবিটিসি) বসাবে ওই সংস্থাই। উন্নত প্রযুক্তির এই ব্যবস্থায় খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে মেট্রো চালানো সম্ভব হয়। কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত এই ব্যবস্থায় চালক ছাড়াই ছুটবে মেট্রো।
উল্লেখ্য, এখন কবি সুভাষ থেকে বেলেঘাটা এবং জোকা থেকে মাঝেরহাট পর্যন্ত মেট্রো চলছে। দু’টি করিডরের অবশিষ্ট কাজ চলছে জোরকদমে। সম্পূর্ণ পথে মেট্রো চালু হওয়ার আগেই নয়া রেকগুলি কলকাতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে রেলের। সেই হিসেবে আগামী আড়াই বছরের মধ্যে ৮০টি রেক সহ সমস্ত ব্যবস্থা করতে হবে। মেট্রো ভবনের এক শীর্ষকর্তা বলেন, ‘এই মুহূর্তে রেকের যথেষ্ট অভাব রয়েছে আমাদের। কবি সুভাষ-দক্ষিণেশ্বর রুট থেকে একাধিক মেধা রেক তুলে এনে শহরের নতুন রুটগুলি চালু রাখা হয়েছে। রেক সংকট কাটাতে এই পদক্ষেপ অনেকটাই সাহায্য করবে।’ প্রসঙ্গত, করোনার আগে নর্থ-সাউথ করিডরের জন্য চীনের ১৪টি ডালিয়ান রেকের বরাত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ‘করোনার উৎসস্থল’ থেকে আসা রেক প্রায় তিন বছর নোয়াপাড়া কারশেডে কার্যত পড়েছিল। ২০২৩ সালের ১৭ মার্চ প্রথম চীনা রেক যাত্রী পরিষেবায় নামে। বর্তমানে ন’টি চীনা রেক ব্লু লাইনে ছুটছে। বাকি পাঁচটি রেক চলতি বছরের মধ্যেই চলে আসার সম্ভাবনা। তবে এই রেকগুলির কারিগরি দক্ষতা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। সোমবারই যাত্রীবোঝাই ৫১৩ নম্বর ডালিয়ান রেক বিগড়ে গিয়ে গোটা রুটে পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তাই মেট্রো কর্তারা আর ওই চীনা রেকে আস্থা রাখতে পারছেন না। এখন দেখার, এই ৮০টি রেকের বরাত কোন সংস্থা পায়!