Bartaman Logo
১২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জল জীবন মিশন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, নিম্নমানের পাইপ বসিয়েই তোলা হয়েছে টাকা

জল জীবন মিশন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত শুরু করেছে নতুন সরকার। পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? বিস্তারিত পড়ুন।

জল জীবন মিশন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, নিম্নমানের পাইপ বসিয়েই তোলা হয়েছে টাকা
  • ১২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: জলজীবন মিশন প্রকল্পে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সরকারি নিয়ম মেনে যে ধরনের পাইপ বসানোর দরকার ছিল, তা ব্যবহার করা হয়নি। নিম্নমানের পাইপ বসানোর জন্য অল্পদিনেই তা ফেটে গিয়েছে। এমনই অভিযোগ পাওয়ার পর এই প্রকল্প নিয়ে তদন্ত শুরু করল রাজ্যের নতুন সরকার। এই প্রকল্পের জন্য প্রতিটি জেলাতেই বিপুল পরিমাণ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। পাইপ লাইনের মাধ্যমে সব গ্রামে জল পৌঁছে দেওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের টার্গেট ছিল। কিন্তু অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়। কোথায় কীভাবে দুর্নীতি হয়েছিল তা ঩নিয়েই নতুন সরকার তদন্তে নামছে।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অনেক এলাকায় পাইপ না বসিয়েই বিল করা হয়েছে। কোথাও কোথাও আবার একই জায়গায় দু’বার পাইপ বসানোর বিল দেখানো হয়েছে। জনস্বাস্থ্যদপ্তরের এই বিষয়টি দেখার দরকার ছিল। তা তারা করেনি। জলের অপচয় হলেও কেউ তা দেখভাল করেনি। এক আধিকারিক বলেন, জলজীবন মিশন প্রকল্পে বহুদিন ধরেই অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ ঠিক মতো হলে, কোনো গ্রামেই পানীয় জলের সমস্যা থাকত না। মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতে বেশি অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। বিভিন্ন গ্রামে পাইপ বসানোর জন্য একাধিকবার রাস্তা খোঁড়া হয়েছে। সেটার কোনো দরকার ছিল না। খরচ বেশি দেখানোর জন্যই এই কাজ করা হয়েছে। 
আর এক আধিকারিক বলেন, সাত-আটটি পুরসভায় আম্রুত প্রকল্পের কাজ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তারমধ্যে বর্ধমান পুরসভা রয়েছে। এই কাজ নিয়ে একাধিকবার পুর কর্তৃপক্ষ পরিকল্পনা বদল করেছে। তারফলে মোটা টাকা খরচ হয়েছে। তাছাড়া পাইপ কেনার ক্ষেত্রেও গরমিলের অভিযোগ রয়েছে। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, বর্ধমান শহরে এই প্রকল্পে কয়েক হাজার বাড়িতে জল পৌঁছে গিয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে গেলে কোথাও পানীয় জলের সমস্যা থাকবে না। 
শহরের বাসিন্দারা বলেন, এই প্রকল্পের কাজ ধীর গতিতে চলায় বর্ধমানের বাসিন্দাদের নাজেহাল হতে হয়। বারাবার রাস্তা খোঁড়া হয়েছিল। রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে ওঠে। তারপরও সময়ে পানীয় জলের সমস্যা মেটেনি। আম্রুত প্রকল্পের মতো জলজীবন মিশন প্রকল্পেও প্রতিটি জেলাতেই কয়েকশো কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। তারপরও কেন ঠিক মতো কাজ হয়নি? তা নিয়ে আধিকারিকরা তদন্ত করবেন। আধিকারিকদের অনেকেই বলছেন, ঠিকমতো তদন্ত করলে কোঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে আসবে। এই কাজে জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দপ্তরের ভূমিকাও ছিল উল্লেখযোগ্য। তাই জনপ্রতিনিধিদেরও অনেকেই তদন্তকারীদের স্ক্যানারে রয়েছেন। তবে, আগামী দিনে যাতে গ্রামে পানীয় জলের সমস্যা না থাকে, সেই ব্যবস্থা নতুন সরকার করবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ