


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ইআরও) হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। এসআইআর পর্বের এইআরও’দের কাজকর্মের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে ‘ইসিআইনেট পোর্টালে’ ঢোকার অধিকার ছিল ইআরও’দের। সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তাঁরা। রিপ্রেজেন্টেশন অব পিপল অ্যাক্ট, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব বিধি এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করেই ইআরও’দের এই অধিকার কেড়ে নিয়েছে ‘ভোটার ডিলিশন র্যাকেট’—সমাজমাধ্যমে তথ্য সহ শনিবার এই অভিযোগ এনেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এ রাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারদের (জেলাশাসক) হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের বার্তালাপের কয়েকটি স্ক্রিনশট পোস্ট (সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান) করেছেন অভিষেক। সেখানে দেখা যাচ্ছে, কেন ইআরও’রা পোর্টালে ঢুকতে পারছেন না, তা জানতে চেয়েছিলেন নদীয়ার ডিইও। তার উত্তর দিয়েছেন এ রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল। তিনি লিখেছেন—‘কেন ইআরও’রা সব জায়গায় ঢুকবেন? যে দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়েছে, সেখানে শুধু ঢোকা উচিত নয় কী?’ উত্তরে ডিইও লেখেন, ‘শুধুমাত্র কাজের অগ্রগতির নজরদারি দেখার জন্য পোর্টালে ঢোকার প্রয়োজন, স্যার’। এবার বেশ কড়া জবাব দেন সিইও। লেখেন—‘ইআরও’রা এইআরও’দের সম পদমর্যাদার। কেন তাঁরা (ইআরও) নজরদারি করবে। নথি যাচাই করে এইআরও’রা যা নিষ্পত্তি করছেন, আইনত তাঁরা (ইআরও) তা তদারকি করতে পারেন না। ’
পোর্টালে ইআরও’দের ‘অ্যাকসেস’ নিয়ে সিইও’র কড়া আপত্তি থাকলেও, অভিষেক যে নথি পোস্ট করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে, রিপ্রেজেন্টেশন অব পিপল অ্যাক্টের ১৩বি ধারা অনুযায়ী—‘ভোটার তালিকা তৈরি এবং সংশোধিত হবে ইআরও’দের মাধ্যমেই।’ এরই পাশাপাশি ওই অ্যাক্টের ১৩সি ধারা অনুযায়ী—‘ইআরও’দের নিয়ন্ত্রণে থেকেই এইআরও’রা কাজে তাঁদের সহযোগিতা করবেন।’ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সমাজমাধ্যমে নথিপত্র পোস্ট করে লিখেছেন—‘সুপ্রিম কোর্টের গত ৯ ফেব্রুয়ারি ও ২০ ফেব্রুয়ারির নির্দেশ অনুযায়ী, এসআইআর পর্বে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইআরও’দের অধিকার দেওয়া হয়েছে। এমনকী লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি/আনম্যাপড হিসেব যে বা যাঁরা নোটিস পেয়ে নথিপত্র জমা দিয়েছেন, সেই সমস্ত নথি যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ‘কোয়াসি-জুডিশিয়াল’ প্রক্রিয়া ইআরও’দের মাধ্যমেই হবে। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের নিজের নির্দেশিকাতেও (২৪ জুন, ২০২৫) ইআরও’দের ক্ষমতা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এসব সত্ত্বেও কীভাবে এ রাজ্যের ইআরও’দের ক্ষমতা-অধিকার খর্ব করা এবং কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা কেন হচ্ছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক। পাশাপাশি তিনি লিখেছেন—‘বাংলার ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে খেলা করার অধিকার কারও নেই। ভোটার ডিলিশন র্যাকেট যতই চেষ্টা করুক না কেন, আইনের আদালত এবং জনার আদালতে তাদের হিসেব দিতেই হবে।’