নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগে বিজেপির সিউড়ি শহর সহ সভাপতিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতের নাম দেবাশিস ঘোষাল। রবিবার রাতে এক মহিলার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার ধৃতকে সিউড়ি জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক জামিনের আবেদন খারিজ করে ১৪দিন জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বীরভূমের রাজনৈতিক অলিন্দে শোরগোল শুরু হয়েছে।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারিণী ওই মহিলার সঙ্গে ধৃত দেবাশিসের আলাপ ছিল। নির্যাতিতার দাবি, সেই চেনা-শোনার সুযোগ নিয়েই তাঁর উপর শারীরিক অত্যাচার চালানো হয়েছে। রবিবার রাতে ওই মহিলা থানায় উপস্থিত হয়ে দেবাশিসের বিরুদ্ধে বলপূর্বক সহবাসের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই সক্রিয় হয় সিউড়ি থানার পুলিশ। রাতেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত নেতা সক্রিয়ভাবে গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে যুক্ত এবং বিধানসভা ভোটে পোলিং এজেন্টের দায়িত্বও সামলেছেন।
এদিন আদালতে ধৃতের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী সোমনাথ মুখোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁর মক্কেলকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আদালতের বাইরে তিনি বলেন, ‘এফআইআরের বয়ান দেখলেই বোঝা যাচ্ছে এটি রাজনৈতিক অভিসন্ধিমূলক। ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আমরা জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা খারিজ করেছে এবং আগামী ১১ মে কেস ডায়েরি তলব করা হয়েছে।’ উল্লেখ্য, ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪, ৩৩২ ও ৩৫১ ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
বিজেপি নেতার এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে বীরভূমে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, নির্বাচনের প্রাক্কালে হেনস্তা করতেই তৃণমূল এই চক্রান্ত করেছে। বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি দীপক দাস বলেন, কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি, অভিযোগকারিণীর মেডিকেল রিপোর্টও নেগেটিভ। এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চক্রান্ত। শহর বিজেপি সভাপতি সুনয়ন ভাণ্ডারীর অভিযোগ, পুলিশকে দিয়ে মিথ্যা মামলা সাজিয়েছে শাসকদল।
পাল্টা সুর চড়িয়েছে ঘাসফুল শিবিরও। তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় এই ঘটনাকে অত্যন্ত লজ্জাজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, অপরাধ যে দলেরই হোক না কেন, তা নিন্দনীয়। বিজেপি নেতাদের উচিত আত্মতুষ্টি ছেড়ে নিজেদের দলের অন্দরে তাকানো। কোনো ঘটনা ঘটলেই তাকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে পদক্ষেপ করা উচিত। নারীদের সম্মান ও অধিকার রক্ষার দাবিতে বিজেপি সোচ্চার হচ্ছে, ঠিক সেই সময় তাদেরই গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নেতা গ্রেপ্তার হতেই অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপি নেতাদের হাতে নারী সুরক্ষা সুরক্ষিত নয় বলেই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল।