চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ, নার্সিংহোমের সামনে দেহ রেখে বিক্ষোভ
  • ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ঢাক বাজিয়ে আর ঘরে ফেরা হল না যুবকের। টোটো ও বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে রঘুনাথগঞ্জের সাইদাপুর রামপুরার বাসিন্দা অলোককুমার রবিদাসের (৩২) মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ, তাঁকে জখম অবস্থায় একটি নার্সিংহোমে নিয়ে নিয়ে গেলেও সময়মতো চিকিৎসা হয়নি। সেজন্য শুক্রবার সকালে ওই নার্সিংহোমের সামনে মৃতদেহ রেখে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে। পুলিশ দেহ ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। মৃতের পরিবার ঘটনার তদন্তের দাবিতে রঘুনাথগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে।

Advertisement

পেশায় ঢাকি অলোকবাবুর বাড়িতে স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বাইক চালিয়ে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। রামপুরার কাছেই একটি টোটোর সঙ্গে তাঁর বাইকের ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় অলোকবাবু গুরুতর জখম হন। স্থানীয়রা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে রঘুনাথগঞ্জের ওই নার্সিংহোমে নিয়ে যান। তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছিল। কিন্তু অভিযোগ, নার্সিংহোমে আনার পর দীর্ঘক্ষণ কেটে গেলেও চিকিৎসকরা অলোকবাবুর চিকিৎসায় উদ্যোগী হননি। ঠিকমতো দেখভালও করা হয়নি। ফলে ওই যুবকের মৃত্যু হয়। এখবর চাউর হতেই মৃতের পরিবার ও স্থানীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ওই নার্সিংহোমের সামনে মৃতদেহ রেখে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। মৃতের স্ত্রী লক্ষ্মী রবিদাস কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ওরা সারা রাত পার করে সকালে বলছে, মারা গিয়েছে। রোগী এত খারাপ অবস্থায় থাকলে তো ওরা বলতে পারত। আমরা অন্য কোথাও নিয়ে যেতাম। ওরা ঠিকমতো চিকিৎসা করেনি। হাসপাতালের মালিক তাপস ঘোষ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, রাতে রোগী ভরতির পরই চিকিৎসা শুরু হয়। ভোরে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সঠিক চিকিৎসা না হওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। ওই যুবকের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। • নিজস্ব চিত্র