নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে বড়োসড়ো ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, রহস্যময়ভাবে ফার্মাসিস্টদের একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর একাধিক ব্যক্তির নামে ইস্যু হয়েছে। সেই ‘জাল’ রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট ব্যবহৃত হয়েছে বিভিন্ন ওষুধের দোকানেও। সুরজিৎ বারিক (রেজিস্ট্রেশন নং এ-২৫৪২২) নামে পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা এক ফার্মাসিস্ট সম্প্রতি কর্মসূত্রে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা ড্রাগ কন্ট্রোলে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর বৈধ রেজিস্ট্রেশন নম্বর অন্যজনের নামে ইস্যু হয়েছে! তাঁর কাছে সমস্ত সরকারি ও ফার্মাসি কাউন্সিলের নথি থাকলেও ড্রাগ কন্ট্রোলের সরকারি নথিতে সেই রেজিস্ট্রেশন নম্বর অন্যের নামে নথিভুক্ত। তিনি আরটিআই করলে ফার্মাসি কাউন্সিল জানায়, তাদের নথিতে রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি সুরজিৎবাবুর নামেই রয়েছে।
সুরজিৎবাবুর মারাত্মক অভিযোগ, ‘আমার রেজিস্ট্রেশন নম্বর জাল করে বারাসত, ডালখোলা ও জামালপুরের বিভিন্ন ওষুধের দোকানে ড্রাগ লাইসেন্স নবীকরণ হয়েছে।’ ইউনাইটেড ফার্মাসিস্টস ফোরামের তরফে নীতা মণ্ডল বলেন, ‘শুধু সুরজিৎবাবুর ক্ষেত্রেই নয়, ডি-৫৭১০৮ নম্বরের আরও একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বরও দুই ভিন্ন ফার্মাসিস্টের নামে ইস্যু হয়েছে। অথচ দুই ব্যক্তির নাম, ছবি, ঠিকানা এবং কর্মস্থল আলাদা। নতুন সরকার কাউন্সিলের শেষ ১০ বছরের সমস্ত রেজিস্ট্রেশন ও রিনিউয়ালের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করুক।’
জনৈক পিন্টু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কেশিয়াড়ি থানায় এফআইআর (৫৬/২৬) দায়ের করেছেন সুরজিৎবাবু। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় আমার সম্মানহানি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ঘটনার সিআইডি তদন্ত দাবি করছি।’ রাজ্য ফার্মাসি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার সায়ক হালদার বলেন, ‘আমরা শুধুমাত্র লাইসেন্স ইস্যু করি। সেটি ওষুধের দোকানে ব্যবহারের বিষয়টি দেখে ড্রাগ কন্ট্রোল। পুলিশ এবং আরটিআই আবেদনকারীকে জানিয়েছি, ওই রেজিস্ট্রেশন নম্বর সুরজিৎ বারিকের নামেই। পিন্টু বিশ্বাসের নামে নয়।’ যদিও ড্রাগ কন্ট্রোল বলছে, তাদের নথিতে পিন্টু বিশ্বাসের অস্তিত্ব আছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘যদি প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ পাই, নিশ্চয়ই খতিয়ে দেখব।’