নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সদর শহর বারাসতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে অমান্য করার অভিযোগ উঠল। জমিতে রয়েছে আদালতের স্থগিতাদেশ। কিন্তু তারপরেও একটি বেসরকারি সংস্থা সেই জায়গা ‘জবরদখল’ করায় শনিবার উত্তেজনা দেখা দেয় বারাসতে। বারাসত-বারাকপুর রোডের বালুরিয়া মৌজাতে রয়েছে ৫৪ কাটা জমি। এর দাগ নম্বর হল ৬৮০, ৬৮৬ ও ৬৮৮। জমির তিনজন শরিক। ২০২২ সালে এই জমি কেনার জন্য চুক্তি করে বারাসতের তিন ডেভেলপারের কাছ থেকে টাকা অগ্রিমও নেন জমি মালিকরা। পরবর্তীতে ডেভেলপাররা জানতে পারেন, ওই জমি ব্যাঙ্কের কাছে মর্টগেজ রয়েছে।
জমি মালিকদের বক্তব্য, কয়েক বছর আগে তাঁরা এই জমি দেখিয়ে তিন কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ব্যাঙ্ক তাঁদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করে একতরফা মধ্যমগ্রামের একটি সংস্থাকে জমি বিক্রি করে দেয়। এরপরই জমি মালিক ও ডেভেলপাররা বারাসত আদালতের দ্বারস্থ হন। বারাসত জেলা আদালত ওই জমি হস্তান্তর সহ কোনও রকমে ব্যবহার করা যাবে না বলে স্থগিতাদেশ দেয়। স্থগিতাদেশের মেয়াদ রয়েছে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। এছাড়া এই জমি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও চলছে। কিন্তু, তার মধ্যেই ব্যাঙ্কের কাছ থেকে যে সংস্থা জমি কিনেছে, তারা কয়েকমাস আগে বুলডোজার নিয়ে গিয়ে তা দখলের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। এনিয়ে বারাসত থানা ও পুলিস সুপারের কাছে অভিযোগও করা হয়। মালিকরা পাঁচিল ঘেরা জমির গেটে তালাও দিয়ে দেন। পাশাপাশি, জমির উপর নিম্ন আদালতের স্থগিতাদেশের ব্যানার টাঙানো হয়। সেই সব অমান্য করে শনিবার তালা ভেঙে ফের জমির দখল নেওয়ার চেষ্টা করে জমির ক্রেতা সংস্থা সহ স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের একাংশ।
এনিয়ে জমির এক মালিক কাজল রায়চৌধুরী বলেন, জমিটি ব্যাঙ্কে মর্টগেজ ছিল। কিন্ত আমাদের না জানিয়ে অকশনে তা বিক্রি করা হয়েছে মধ্যমগ্রামের একটি সংস্থাকে। নিম্ন আদালত স্থগিতাদেশ দিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও চলছে। এর মধ্যে কীভাবে জমির দখল নিতে পারে একপক্ষ? এজন্য পুলিসের নিষ্ক্রিয়তাই দায়ী।