গেস্ট হাউসে মধুচক্র চালানোর অভিযোগ, বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার পালটা নালিশ
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ‘তোলা’ না দেওয়ায় গেস্ট হাউসে হামলার অভিযোগ দেগঙ্গায়। এ নিয়ে মঙ্গলবার রাতে উত্তেজনা ছড়াল দেগঙ্গার কালিয়ানি এলাকায়। সেই সঙ্গে গেস্ট হাউসে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে, গেস্ট হাউসের আড়ালে মধুচক্র চালানো হয় বলে অভিযোগ তুলে গেটের মুখে পোস্টার সাঁটিয়েছে গ্রামবাসীদের একাংশ। এ নিয়ে গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষ ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে প্রথমে বচসা, পরে তা হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে দেগঙ্গা থানার পুলিশ।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেগঙ্গার টাকি রোডের পাশে কালিয়ানি বিল লাগোয়া একটি জনবহুল এলাকায় গেস্ট হাউসটি অবস্থিত। এই গেস্ট হাউসের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরেই দেহব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের একাংশের। তাঁদের অভিযোগ, ১৫ দিন আগে পুলিশ ও স্থানীয়দের উদ্যোগে গেস্ট হাউস থেকে দুই যুগল সহ মোট সাতজনকে আটক করা হয়। তারপর গেস্ট হাউসটি বন্ধ করে দেয় পুলিশ। কিন্তু সংলগ্ন কাফেটি খোলাই ছিল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পিছনের দরজা দিয়ে ফের মধুচক্রের কারবার চালু করে তারা। তা বন্ধের দাবিতে মঙ্গলবার গেস্ট হাউসের গেটে পোস্টার সেঁটে দেন গ্রামবাসীরা। বুধবার ঘটনাস্থলে আসে দেগঙ্গার বিজেপি নেতৃত্ব। গেস্ট হাউস বন্ধের দাবিতে সরব হন তাঁরা। এরপরেই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বচসা শুরু হয় বিজেপি কর্মীদের। অভিযোগ, ক্রমে তা হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেয় দেগঙ্গা থানার পুলিশ।
গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষের তরফে সেলিমউদ্দিন বলেন, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও আমাদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। আমরা ওদের দাবি মেনে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে না পারায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে দু’বার হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়াই ওদের উদ্দেশ্য। বিক্ষোভকারী নৃপেন্দ্রনাথ দাস বলেন, এলাকার পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। এনিয়ে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য নেতা তরুণকান্তি ঘোষ বলেন, গেস্ট হাউসের আড়ালে মধুচক্র চালানোর অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। প্রশাসনের উচিত, নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। তোলাবাজির যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা পুরোটাই মিথ্যা। 
উল্লেখ্য, ২৩ অক্টোবর গেস্ট হাউস ঘিরে বিক্ষোভের সময় নেমপ্লেট ও সংলগ্ন কাফেতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে এসেছিল। এনিয়ে দেগঙ্গা থানার পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।