নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সাঁকরাইলের পাঁচপাড়া পঞ্চায়েতের নিমতলা এলাকায় বিজেপির দলীয় পতাকা ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে ওঠে। এই ঘটনায় বিজেপির এক মহিলা নেত্রী ও তাঁর ছেলেকে মারধরের অভিযোগকে ঘিরে বৃহস্পতিবার রাত থেকে এলাকায় অশান্তির আবহ তৈরি হয়। শুক্রবার পুলিশ দু’পক্ষের মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বিজেপির দাবি, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ নিমতলায় তাদের দলীয় পতাকা খুলে ফেলা ও ছিঁড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি লক্ষ্য করে প্রতিবাদ জানাতে গেলে স্থানীয় বিজেপি নেত্রী মালবিকা দাসের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। তাঁকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয় বলে দাবি দলের। মাকে বাঁচাতে ছুটে আসেন তাঁর ছেলে প্রীতম দাস, যিনি ওই মণ্ডলের যুবমোর্চার সাধারণ সম্পাদক। তাঁকেও বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, হামলার জেরে প্রীতমের হাত ভেঙে গিয়েছে। আহত মা ও ছেলেকে দক্ষিণ হাওড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে সাঁকরাইল থানার সামনে বিক্ষোভে শামিল হন বিজেপি কর্মীরা। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও কড়া শাস্তির দাবিতে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান তাঁরা। রাজ্য মহিলা মোর্চার সদস্যা করবী দাস বলেন, ‘রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ব্যর্থ।’ অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। দক্ষিণ হাওড়া বিধানসভার তৃণমূল সভাপতি সৈকত চৌধুরীর দাবি, ঘটনার সঙ্গে তাঁর দলের কোনও যোগ নেই। এটি বিজেপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল। উলটে তাঁদের এক কর্মীকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও রাজনৈতিক চাপানউতোর রয়েছে। নিজস্ব চিত্র